১৩ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্ব নিশ্চিত
নেত্রকোনার বারহাট্টায় এক বিধবাকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুটির ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে তার পিতার পরিচয় জানার জন্য। আজ বুধবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় দেন। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে আদালত আসামিকে শিশুটির বাবা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
আদালতের রায় ও দণ্ড
রায় ঘোষণার সময় দণ্ড পাওয়া আসামি (৩৫) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি নূরুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, "এ রায়ের মাধ্যমে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুটি তার বাবার পরিচয়ের ব্যাপারে আইনগত স্বীকৃতি পেয়েছে। রায়ে আদালত উল্লেখ করেছেন যে শিশুটি তার বাবার সম্পত্তিতে আইনানুগ অধিকার ভোগ করবে।"
ঘটনার বিবরণ
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১ মার্চ বারহাট্টা উপজেলার একটি গ্রামের এক বাসিন্দা (আসামি) এক বিধবাকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার ১০ দিন পর ১০ মার্চ ভুক্তভোগীর বোন বাদী হয়ে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
ডিএনএ পরীক্ষার ভূমিকা
মামলার বিচার চলাকালে ভুক্তভোগী নারীর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরে শিশু ও আসামির ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। প্রতিবেদনে আসামিই শিশুটির বাবা বলে প্রমাণিত হয়। পরে পুলিশের জমা দেওয়া অভিযোগপত্র, আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ের তাৎপর্য
এই রায়ের মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার নারী ও তার সন্তান আইনি সুরক্ষা পেয়েছে। নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এই রায় ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুদের পিতৃত্ব ও সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।



