নিজের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ না করতে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা
নিজের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ না করতে নির্দেশনা

নিজের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ না করতে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে একটি বিদ্যালয়ের নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাব অনুযায়ী, শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন নাম রাখা হতে পারে ‘শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’। তবে নিজের নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের উদ্যোগ না নিতে শিক্ষা সচিবকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

এ বিষয়ে গত ১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠান তিনি। শুক্রবার বিকালে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সচিব আতিকুর রহমান এ তথ্য দিয়েছেন।

পত্রে কী উল্লেখ করেছেন?

পত্রে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে ও স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে তার নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন, যা তার কাছে অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, পরিচিতি ও স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখাই অধিকতর সমীচীন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও জানান, শিবগঞ্জ-মোকামতলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে জমি দান, নিজ অর্থে জমি ক্রয়, প্রতিষ্ঠাকালীন ব্যয় বহন ও সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে আসছেন। তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৯৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত বা উন্নয়ন করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • মীরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৯৯৭)
  • বেতগাড়ি মীরবাড়ি সরকারি এতিমখানা (২০০৪)
  • বেতগাড়ি মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (২০০১)
  • বেতগাড়ি মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড বিএম মহাবিদ্যালয় (২০০৪)
  • তিয়াইল মীর লাবনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২০১২)
  • বেতগাড়ি মীর শাহে আলম মৎস্য ও কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (২০১৩)
  • বেতগাড়ি মীর মাহাতাব-শাহে আলম মহিলা দাখিল মাদ্রাসা (২০২৩)
  • মোকামতলা মীর শাহে আলম-ছাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয় (২০২৩)
  • কিচক মীর শাহে আলম কলেজ (২০২৩)
  • বেতগাড়ি মীর শাহে আলম ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউট (২০২৫)

পত্রের শেষাংশে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেন, উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব যেন গ্রহণ বা অনুমোদন না করা হয়। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্বের নাম ও পরিচিতি সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

চিঠির অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী; বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর নামে স্কুল নামকরণের প্রস্তাব

বগুড়ায় ইউনিয়ন কাণ্ডের পর এবার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে স্কুল নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত পত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে মতামত দিতে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে- বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নামে নামকরণের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিন পরিদর্শন করে সুস্পষ্ট মতামত ও যৌক্তিকতাসহ স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব সুপারিশসহ প্রতিবেদন পাঠাতে শিক্ষা বোর্ড ও জেলা প্রশাসককে বলা হয়েছে।

এর আগে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার কয়েকটি নতুন ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলে, এক ভাতিজি ও পৈতৃক বাড়ির নামের সঙ্গে মিল রেখে ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নতুন করে স্কুলের নাম পরিবর্তনের খবর প্রচার হলে সাধারণ জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

তবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ-মোকামতলা) আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম ওই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ইউনিয়নের নাম স্থানীয় জনগণের মতামত এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হয়েছে।