শেরপুরে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: আসামির মৃত্যুর ৫ বছর পর মৃত্যুদণ্ড বহাল
শেরপুরে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: মৃত্যুর ৫ বছর পর মৃত্যুদণ্ড বহাল

শেরপুরে এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কান্তি মারাকের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে হাইকোর্ট তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। তবে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগেই কাশিমপুর কারাগারে মারা গেছেন ওই আসামি। এ ঘটনায় বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

রায় ঘোষণা

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়।

আসামির মৃত্যু

জানা গেছে, তিন বছর বন্দি থাকার পর ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কান্তি মারাক (৪৫) অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে কারা কর্তৃপক্ষ। কান্তি মারাক শেরপুরের নালিতাবাড়ী থানার পানিহাতা কেকামারি এলাকার নিতিশ মান্দার ছেলে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার বিবরণ

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ শেরপুরের নালিতাবাড়ী এলাকায় এক শিশু নিখোঁজ হয়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর প্রতিবেশী কান্তি মারাকের ঘরের মেঝেতে রক্তের দাগ থাকা হাফ প্যান্ট ও জামা পাওয়া যায়। পরে তার বসতবাড়ির পাশে পানি সেচের ড্রেন থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।

আইনি প্রক্রিয়া

এ ঘটনায় কান্তি মারাকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা করা হয়। পরে গ্রেফতার করা হয় কান্তি মারাককে। তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। ২০১৯ সালে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে কান্তি মারাকের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে তা অনুমোদনের জন্য ওই বছরই ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, "এটি (আসামির মৃত্যুর বিষয়টি) অবশ্যই জানানো হয়েছিল বলে আমার ধারণা। কেননা আমাদের কারাগারে কেউ মারা গেলে চিঠি দিয়ে সব দপ্তরে জানিয়ে দেই। যেহেতু প্রায় ছয় বছর আগের ঘটনা, তখন যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি ভালো জানেন।"