ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কুরাটি গ্রামে ধর্ষণের কোনো ঘটনা না ঘটলেও লিটন মোদক (৪৫) নামের এক দিনমজুরের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সালিশে হাত বেঁধে মারধর ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘটনা ঘটেছে। তবে কথিত ভুক্তভোগী কিশোরী (১২) থানায় গিয়ে নিজের জবানবন্দিতে লিটন মোদককে নির্দোষ দাবি করায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
ঘটনার সূত্রপাত
গত ৩ জুলাই দুপুরে প্রতিবেশী নিরোদ চন্দ্র মোদকের ছেলে লিটন মোদক একটি গাছ থেকে লটকন পাড়তে যান। সেখানে লাকড়ি কুড়াতে আসে প্রতিবেশী শফিকুল ইসলামের ১২ বছরের মেয়ে। লটকন নষ্ট হতে পারে ভেবে লিটন তাকে চলে যেতে বলেন। ঘটনাটি দেখে খলিল মিয়া নামে এক ব্যক্তি গ্রামে রটিয়ে দেয় যে লিটন মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে।
জানা গেছে, খলিল ওই মেয়েটিকে বিয়ে করতে চেয়ে ব্যর্থ হওয়ায় এ মিথ্যা অপবাদ ছড়ায়। পরবর্তীতে একটি মহল মেয়েটিকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে চাপ দিলে সে আত্মগোপন করে।
সালিশ ও মারধর
গত ৪ জুলাই স্থানীয় কুরাটি নদীরপাড় বাজারে মন্টু খাঁ, গ্রাম্য চিকিৎসক হাবিবুল্লাহসহ মাতুব্বররা সালিশ বসায়। সেখানে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের কেউ উপস্থিত না থাকলেও লিটনের হাত পেছনে বেঁধে মারধর করা হয়। মারধর ও পুলিশের ভয়ে লিটন অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য হলে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওই রাতেই পুলিশ লিটনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
কিশোরীর জবানবন্দি
পরদিন ৫ জুলাই বিকালে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় আনা হলে সে ও তার অভিভাবকরা জানান, ধর্ষণের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। লিটন মোদককে সে ‘দাদা’ বলে শ্রদ্ধা করে। মূল দোষী খলিল, যে তার বাবার বয়সি হওয়া সত্ত্বেও তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং রাজি না হওয়ায় এই কুৎসা রটিয়েছে। মেয়েটি খলিলের শাস্তি দাবি করে।
পুলিশের বক্তব্য
নান্দাইল মডেল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানান, ধর্ষণের গুঞ্জন শুনে লিটন মোদককে আটক করা হয়েছিল। তবে মেয়েটি ও তার অভিভাবককে জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট প্রমাণিত হওয়ায় লিটন মোদককে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত খলিল মিয়া পলাতক রয়েছে।



