কুমিল্লায় মাদকবিরোধী মানববন্ধনে হামলা, ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ
কুমিল্লায় মাদকবিরোধী মানববন্ধনে হামলা, শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ

কুমিল্লা নগরের কাটাবিল এলাকায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন কর্মসূচিতে হামলা ও গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইথান আহমেদ নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পাশাপাশি আরও চার জন আহত হয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে কাটাবিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিক্ষার্থী ইথান আহমেদকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। সে কাটাবিল এলাকার ইউনুস মিয়ার ছেলে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার এসব তথ্য বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।

আহত শিক্ষার্থীর অবস্থা

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীর পিঠে বিদ্ধ হওয়া গুলিটি ফুসফুসেও আঘাত করে। হাসপাতালে তাৎক্ষণিক আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র) ফাঁকা না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বেলা আড়াইটার দিকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পটভূমি ও উত্তেজনা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাটাবিল এলাকাটি মাদকপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই এলাকায় মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বুধবার রাত থেকে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। রাতে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মানববন্ধন ও হামলা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে এলাকার সচেতন বাসিন্দাদের ব্যানারে একটি পক্ষ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। সেই মানববন্ধন থেকে এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবি এবং আগের রাতের ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়। তবে কর্মসূচির শেষে একদল অস্ত্রধারী সেখানে হামলা চালায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতি

গুলির শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এমন সময় বিদ্যালয়ে টিফিন বিরতিতে খাবার কিনতে বের হওয়া ওই শিক্ষার্থীর পিঠে গুলি লাগে। এ ছাড়া উভয় পক্ষের অন্তত চার জন আহত হন। অন্য আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হালিম বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছিলাম; কিন্তু হঠাৎ হামলার ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। একটি স্কুলপড়ুয়া ছেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমরা এই এলাকা থেকে মাদকের কারবার বন্ধ চাই।’

গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীর মা সোনিয়া আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলে স্কুলে পড়তে গিয়েছিল। টিফিন খেতে বের হওয়ার সময় তার গায়ে গুলি লাগে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিচার চাই। সকালে আমার ভালো ছেলেটাকে স্কুলে পাঠিয়েছিলাম; আর দুপুরে তাকে হাসপাতালে দেখতে হলো।’

অভিভাবকদের উদ্বেগ

ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মাহাবুব আলম নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘আমরা সন্তানদের লেখাপড়া শেখানোর জন্য স্কুলে পাঠাই। যদি স্কুলের সামনেই গুলি চলে, তাহলে সন্তানদের নিরাপত্তা কোথায়?’

পুলিশের অবস্থান

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলি বের করা হবে।’

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সাইফুল মালিক বলেন, ‘ঘটনাস্থলে বর্তমানে পুলিশের একাধিক টিমের পাশাপাশি ডিবি পুলিশও কাজ করছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।’