কক্সবাজারের টেকনাফে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শফি উল্লাহ (৩০) নামে এক কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) বিকালে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পুরাতনপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শফি উল্লাহর ভাই আবু বক্কর গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হত্যার বিবরণ ও পরিস্থিতি
শফি উল্লাহ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পুরাতনপাড়া এলাকার মোক্তার আহমদের ছেলে। তিনি হ্নীলা মঈদ উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজের ডিগ্রি ৩য় বর্ষের ছাত্র। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ, সহপাঠী ও এলাকাবাসীসহ অনেকেই। ওই হত্যার বিচার যথাযথভাবে তদন্ত করে দ্রুত কার্যকর করার পাশাপাশি হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবি করেছেন কলেজের সহপাঠীসহ স্বজনরা।
পারিবারিক বক্তব্য ও অভিযোগ
নিহত শফি উল্লাহর ভাই আবু বক্কর জানান, দীর্ঘদিন ধরে শফি উল্লাহদের বাড়ি যাওয়ার রাস্তাটি জোরপূর্বক বন্ধ করে দেয় তার চাচাতো ভাইয়েরা। ফলে চলাচল করতে অসুবিধা হলে কক্সবাজার আদালতে তা উদ্ধার চেয়ে মামলা করা হয়। ওই মামলার তদন্ত টেকনাফ মডেল থানায় এলে পুলিশ সরেজমিন তদন্ত করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন "আমাদের নামে কেন মামলা করেছে" বলে ৫-৭ জনের একটি দল শনিবার (৪ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে হামলা চালায়। শফি উল্লাহসহ বেশ কয়েকজনকে উপর্যুপরি বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আঘাত করে তারা। ওই আঘাতে শফি উল্লাহ গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে টেকনাফ উপজেলা পরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে তিনি মারা যান।
আবু বক্কর আরও জানান, "আমার ভাইকে কামাল, নোমান, আবু বক্কর, জহির আহমদের ছেলে ইসমাইল, ইসহাক, ইদ্রিস, ইলিয়াসসহ বেশ কয়েকজন মারধর করেছে।" শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লাশ কক্সবাজার মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাবরাং এলাকায় দুইপক্ষের সংঘর্ষ হলে শফি উল্লাহ নামের এক যুবক মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে কক্সবাজার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



