ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় আবারও রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধর্মতীর্থ গ্রামের লোকজনের মধ্যে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টর্চলাইট জ্বালিয়ে এই সংঘর্ষ চলে। এতে সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক সড়কে অন্তত দুই ঘণ্টা সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ৮টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে থেমে থেমে বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে।
এর আগে রবিবার রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় ওই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। নিহত হাদিস মিয়া (৫৫) ধর্মতীর্থ গ্রামের সামসুল হকের ছেলে। ওই সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৩০ জন। বাজারে উভয় গ্রামের অন্তত ১০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
জানাজা ও নতুন সংঘর্ষ
সোমবার সন্ধ্যায় ধর্মতীর্থ গ্রামে হাদিস মিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে কালীকচ্ছ বাজারে দুই পক্ষের লোকজন আসলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যাতে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পুলিশ দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশের বক্তব্য
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘আজ সন্ধ্যায় সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কালকের ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পরবর্তী সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।’
বিরোধের কারণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মতীর্থ হাওরে মাছ ধরার জন্য দেড় বছর আগে সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ হোসেন ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিস মিয়ার কাছ থেকে বাকিতে চাঁই (মাছ ধরার বেড়) কেনেন। মোশাররফ হোসেন এখনও পুরো টাকা পরিশোধ করেননি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। রবিবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় এবং এর জেরে উভয় গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা, দা-বল্লম ও ইটপাটকেল নিয়ে কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের বল্লমের আঘাতে হাদিস মিয়া নিহত হন।



