ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের পটভূমি ও ঘটনাক্রম
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধর্মতীর্থ গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। বাজারে উভয় গ্রামের অন্তত ১০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। নিহত হাদিম মিয়া (৫৫) ধর্মতীর্থ গ্রামের সামসুল হকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মতীর্থ হাওরে মাছ ধরার জন্য দেড় বছর আগে সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ হোসেন (৪৫) ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়ার কাছ থেকে বাকিতে চাঁই (মাছ ধরার বেড়) কেনেন। মোশাররফ হোসেন এখনো পুরো টাকা পরিশোধ করেননি। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। রোববার সন্ধ্যার দিকে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা–কাটাকাটির ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের বিবরণ
এর জের ধরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উভয় গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা, দা–বল্লম ও ইটপাটকেল নিয়ে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সরাইল থানার পুলিশ রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের বল্লমের আঘাতে হাদিম মিয়া নিহত হন।
পুলিশের বক্তব্য
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া রাত ১১টার দিকে বলেন, “পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লাশ পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”



