পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ নাগরিকের মামলার অধিকার দাবি
পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকের মামলার অধিকার দাবি

দেশে বিদ্যমান আইনে পরিবেশ বিপর্যয় রোধে সাধারণ নাগরিকের সরাসরি মামলা করার অধিকার নেই। তাই পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ নাগরিকেরা যাতে সরাসরি মামলা করতে পারে, সে জন্য আইন সংস্কার–যুগোপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন গবেষক ও পরিবেশবিদেরা।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি

আজ শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। ‘অস্তিত্বের সংকটে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ: উত্তরণের উপায় অনুসন্ধান’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটি।

আলোচকদের বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে আলোচক হিসেবে ছিলেন লেখক ও নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী। তিনি বলেন, সরকারকে অবিলম্বে পরিবেশ আইন পরিবর্তন ও যুগোপযোগী করতে হবে। সরকারের ‘নদীখনন’ কর্মসূচিকে ‘খালখনন’ নামকরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মাহবুব সিদ্দিকী। তাঁর অভিযোগ, ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে স্থানীয় প্রভাবশালী ও পার্শ্ববর্তী ভূমি মালিকদের খাস জমি দখলের সুবিধা দিতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই নামকরণ করা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভারতের সঙ্গে যৌথ নদীর পানির হিস্যা আদায়ে সরকারকে ১৯৯৭ সালের জাতিসংঘের কনভেনশন বা সনদ অনুস্বাক্ষর করার পরামর্শ দেন মাহবুব সিদ্দিকী। তিনি বলেন, সনদটি ভাটির দেশের নদী রক্ষায় অনেক বেশি সহায়ক। কিন্তু অনুস্বাক্ষর না করায় বাংলাদেশ তেমন কোনো সুবিধা নিতে পারছে না।

প্রবন্ধ উপস্থাপন

সংবাদ সম্মেলনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি পরিকল্পনাবিদ মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। তিনি জলাবদ্ধতা, শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়কে নগর এলাকার পরিবেশের জন্য প্রধান সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন। আর গ্রামীণ এলাকার প্রধান সমস্যা হিসেবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার, উপকূলে নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কথা বলেন তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দেশের নদ–নদীর সংখ্যা, আয়তন, গভীরতা ও সীমানার তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাতটি দাবি উত্থাপন করেন আরিফুল ইসলাম। এসব দাবির মধ্যে আছে জলাশয় দখল-দূষণে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠানের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা। তথাকথিত উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রীয় পরিবেশগত ধ্বংসযজ্ঞের হিসাব প্রকাশ করা। মাঠ, পার্ক, কৃষিজমি ও নদী সুরক্ষায় কঠোর আইনি নজরদারি নিশ্চিতে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা।

অন্যান্য বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সবুর আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের মাটিতে ভারী ধাতুর মাত্রা অনেক বেড়েছে। এর পেছনের কারণ জমিতে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক, কীটনাশকের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার।

বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার মূল ধারায় পরিবেশ নিয়ে একটি মৌলিক ধারণা যুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। দূষণের কারণে দেশের বিভিন্ন নদীর পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা এখন অস্বাভাবিক হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আবদুল জলিল বলেন, মানুষ লোভে পড়ে বিবেকহীন হয়ে গেছে। তাই মানুষকে পরিবেশ দূষণের ক্ষতি সম্পর্কে জানানো উচিত। পরিবেশ দূষণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশের প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে। শহরের শিল্পকারখানা এই ধ্বংসের পেছনের অন্যতম ক্রীড়নক। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটির মুখপাত্র ইবনুল সাঈদ রানা। আরও বক্তব্য দেন বেসরকারি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার, প্রাকৃতিক কৃষি গবেষক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।