কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় এক নারীকে বিয়ে করে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন চীনের নাগরিক আন হংওয়েই। তাঁর দাবি, স্ত্রী প্রায় চার হাজার মার্কিন ডলার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন। তাঁকে খুঁজতে শ্বশুরবাড়ি ও ফুলবাড়ী থানায় সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
ঘটনার বিবরণ
গত সোমবার বিকেলে ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে স্ত্রীর বাবার বাড়িতে যান আন হংওয়েই। বিদেশি নাগরিকের উপস্থিতির খবর পেয়ে এলাকার অনেকে ওই বাড়িতে ভিড় করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় থানায় গিয়ে স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে মোর্শেদা বেগমের সঙ্গে ধর্মপুর গ্রামের দিনমজুর আবদুল গহুরের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের সংসারে আট বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে। পরে দাম্পত্য কলহের জেরে তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।
বিয়ে ও পরিচয়
ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত অবস্থায় ফুলবাড়ীর ধর্মপুর গ্রামের প্রয়াত মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে মোর্শেদা বেগমের সঙ্গে চীনের নাগরিক আন হংওয়েইয়ের বিয়ে হয়। ঘটনাটি সাভার এলাকায় ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। গত ২০ এপ্রিল পারিবারিকভাবে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্বামীকে নিয়ে গ্রামে এলে বিষয়টি এলাকায় আলোচনার জন্ম দেয়।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফেরদৌস ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, "প্রথম স্বামী ও সন্তানকে রেখে মোর্শেদা চীনের নাগরিককে বিয়ে করেছিলেন। তখন ধারণা ছিল, তিনি প্রতারণার শিকার হতে পারেন। কিন্তু এখন উল্টো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।" তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোর্শেদা বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত একাধিক মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোর্শেদার এক স্বজন প্রথম আলোকে বলেন, "চীনের নাগরিকের সঙ্গে বিয়ের পর তাঁর কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়েছিলেন মোর্শেদা। এর কয়েক দিন পর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ নেই।"
পুলিশের অবস্থান
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, "ভাষাগত সমস্যার কারণে চীনের নাগরিকের বক্তব্য পুরোপুরি বোঝা সম্ভব হয়নি। তবে ইশারার মাধ্যমে তিনি অভিযোগের বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনাটি সাভার এলাকায় ঘটেছে। তাই তাঁকে সাভার থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।"



