গাইবান্ধায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে রেস্টুরেন্ট মালিককে গণধোলাই
গাইবান্ধায় শিশু ধর্ষণ, অভিযুক্তকে গণধোলাই

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আমির উদ্দিন (৪০) নামে এক চাইনিজ রেস্টুরেন্ট মালিককে আটক করে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় জনতা। বুধবার (২৪ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলা সদরের ভেড়ামারা ব্রিজ এলাকার জাফলং চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে মানিক নামে এক ব্যক্তি ঘাঘট নদীর পাড়ে নির্জন স্থানে জাফলং চাইনিজ নামের রেস্টুরেন্টটি প্রতিষ্ঠা করেন। রেস্টুরেন্টের চারপাশে সুরক্ষিত ছোট ছোট খুপড়ি ঘর তৈরি করে ফাস্টফুড ও চাইনিজ খাবার বিক্রির নামে নারীদের মাধ্যমে অসামাজিক কার্যকলাপ শুরু হয়। সেখানে জুয়া, মদ ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সেবন ও বিক্রির ব্যবস্থাও গড়ে ওঠে। গাইবান্ধা শহরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকাসক্তরা সেখানে রাতদিন আসর জমিয়ে তোলে।

ওই রেস্টুরেন্টের ভাড়াটে মালিক আমির উদ্দিন বুধবার সকালে স্থানীয় এক প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে চাইনিজ ও ফাস্টফুড খাওয়ানোর কথা বলে রেস্টুরেন্টের নির্জন গোপন ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। শিশুটি কোনোভাবে তার হাত থেকে ছাড়া পেয়ে দৌড়ে বাইরে এসে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে আমির উদ্দিনকে ধরে ফেলে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গণধোলাই ও ভাঙচুর

বিক্ষুব্ধ জনতা রেস্টুরেন্টটি চারদিক থেকে ঘিরে ভাঙচুর শুরু করে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অভিযুক্তকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে জনতার রোষ থেকে আমির উদ্দিনকে উদ্ধার করে গোপনে মোটরসাইকেলে করে থানায় নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা জানতে পারে তাকে রেস্টুরেন্টের পেছনের রাস্তা দিয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। এতে নারী-পুরুষ আরও বিক্ষুদ্ধ হয়ে রেস্টুরেন্টটি ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দেয়।

পুলিশের বক্তব্য

গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম জানান, 'জনরোষ থেকে ধর্ষককে আমরা কৌশলে জীবন্ত আটক করে থানায় এনেছি।' তিনি আরও জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ