ঢাকার অদূরে সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রার পর সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব মো. সালামত উল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে বিস্ফোরণের পেছনে কোনো নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সংঘবদ্ধ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা
মামলার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে রাতের বিভিন্ন সময় তিন থেকে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে আনা হয়। ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনা
মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এনসিপির পূর্বঘোষিত জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচির একটি সমাবেশ সাভার মডেল থানার তারাপুর ঈদগাহ মাঠে আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যার পর সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে পৌঁছান।
কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে ওঠার ৫ থেকে ১০ মিনিট আগে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সমাবেশস্থল অন্ধকার হয়ে পড়ে। পরে জেনারেটরের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা হলেও তা ছিল অপর্যাপ্ত। আয়োজকেরা বিদ্যুৎ কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। আনুমানিক রাত ৯টা ৪২ মিনিটে নেতাদের বক্তব্য চলাকালে মঞ্চ থেকে ১০ থেকে ১৫ ফুট সামনে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে চারদিক সাদা ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত লোকজন দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। এতে অনেকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন।
মামলায় হত্যার উদ্দেশ্যের অভিযোগ
এজাহারে আরও বলা হয়, পরে সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করে মামলা করার জন্য নেতা-কর্মীরা সাভার মডেল থানার দিকে যান। অজ্ঞাতনামা আসামিরা এনসিপির নেতাদের ও সাধারণ শ্রোতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে এ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে এজাহারে।



