বগুড়ায় এইচএসসি প্রবেশপত্র বিতরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ
বগুড়ায় এইচএসসি প্রবেশপত্র বিতরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার রানীরহাট স্কুল অ্যান্ড কারিগরি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে এইচএসসি বিএমটি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র বিতরণের নামে ৬০০ টাকা করে অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এসএসসি ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কলেজের এইচএসসি বিএমটি শাখায় চলতি বছর ৩৮১ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। আগামী ২ জুলাই থেকে তাদের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। বোর্ড নির্ধারিত ফরম পূরণের ফি ছিল ১ হাজার ৮৮৫ টাকা। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গড়ে সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বোর্ড নির্ধারিত ফি বাদে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে প্রায় ১৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রবেশপত্র বিতরণের জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি ৬০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে, যা ৩৮১ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোট ২ লাখ ২৮ হাজার ৬০০ টাকা। এসএসসি ভোকেশনাল শাখার ২৮৫ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে আরও ১ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিভাবকের অভিযোগ

অভিভাবক শাকিলা আক্তার বলেন, “বোর্ড নির্ধারিত ফির তুলনায় আমার ছোট বোনের কাছ থেকে প্রায় দেড় হাজার টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে। পরে প্রবেশপত্রের জন্যও ৬০০ টাকা এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।”

নীতিমালা লঙ্ঘন

‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও অধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব পরিচালনার বিধান থাকলেও এখনও যৌথ হিসাব খোলা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন খাতের অর্থ অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত হিসাবে জমা রাখা হচ্ছে। নীতিমালায় উল্লেখ আছে যে, দুই কর্ম দিবসের বেশি সময় নগদ টাকা হাতে রাখা যাবে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অধ্যক্ষের বক্তব্য

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন বলেন, “প্রবেশপত্র বাবদ ওঠানো অর্থ কলেজের বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হবে।” অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, “অনেক শিক্ষার্থী কম টাকা দেওয়ায় অন্যদের কাছ থেকে একটু বেশি নিয়ে সমন্বয় করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, শিগগিরই যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলা হবে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি তাইফুর রহমান বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, “অভিযোগ হাতে পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”