বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর দায়ের করা একটি মামলায় ১১ আইনজীবীর নাম অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। মামলাটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং আসামিদের নাম কেন মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ
গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল আউয়াল মিন্টু বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জন আইনজীবীসহ মোট ৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। আইনজীবীদের মধ্যে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট শিশির মনি, অ্যাডভোকেট মো. কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান, অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল করিম, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল লতিফ, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহিম এবং অ্যাডভোকেট মো. আব্দুস সালাম।
আইনজীবীদের আবেদন
মামলায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে ওই ১১ আইনজীবী হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। তাদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, মামলায় আমাদের নাম জড়ানোর কোনো কারণ নেই। আমরা আইন পেশায় নিয়োজিত এবং কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। তাই মামলা থেকে আমাদের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।
হাইকোর্টের আদেশ
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করে। রুলে মামলাটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং আসামিদের নাম কেন মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মামলার কার্যক্রম চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ২২ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
প্রতিক্রিয়া
আইনজীবী মো. কামাল হোসেন বলেন, হাইকোর্টের এই রুল আইনজীবী সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় স্বস্তি। আমরা আশা করি, মামলাটি খারিজ হবে এবং আমাদের নাম চিরতরে বাদ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, মামলাটি সঠিক প্রক্রিয়ায় দায়ের করা হয়েছে। আইনজীবীদের নাম অন্তর্ভুক্তির পেছনে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। আদালতে আমরা তা উপস্থাপন করব।
আইনজীবীদের উদ্বেগ
এ ঘটনায় আইনজীবী সমিতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করে, আইন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা আইনজীবীদের কাজের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করবে। আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা দেওয়া আইনের শাসনের পরিপন্থী। আমরা হাইকোর্টের রুলকে স্বাগত জানাই।



