বিস্ফোরণের আগে হঠাৎ বিদ্যুৎ বন্ধ
সাভারে জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মাসব্যাপী কর্মসূচির পদযাত্রার সমাবেশস্থলে বিস্ফোরণের ঘটনার ঠিক আগ মুহূর্তে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এটিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন।
সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাভারের বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি এ ঘটনায় ঢাকা জেলার দুজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করার কথাও জানান এসপি।
মামলা দায়ের ও তদন্ত প্রক্রিয়া
বিস্ফোরণের ঘটনায় এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব সালামত উল্লাহ রনি, জুলাই যোদ্ধা মো. ইউনুস আলী এবং আজহারুল ইসলাম তামিম বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
এসপি শামীমা পারভীন বলেন, "যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি অবশ্যই অনাকাঙ্ক্ষিত। খবর পাওয়ার পর আমি নিজে ঢাকা থেকে এখানে চলে এসেছি। উনাদের পদযাত্রা কর্মসূচিতে আমাদের পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। তাদের পাকিজা মোড় থেকে রিসিভ করে সামনে পেছনে নিরাপত্তা দিয়ে এখানে নিয়ে আসে পুলিশ। আনার পর আমরা যতটা জানতে পারলাম, এখানে বক্তৃতা চলাকালে যারা ছিলেন হঠাৎ করে একটা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এটা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত, হওয়ার কথা ছিল না।"
নেতাদের নিরাপত্তা ও বর্তমান অবস্থান
তিনি আরও বলেন, "পুলিশ এখানে ছিল, সাভারের ওসি, সার্কেল এসপিও ছিলেন। মঞ্চে যারা ছিলেন নাহিদ ইসলাম, সারজিসসহ এনসিপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। তারা অনুষ্ঠান সমাপ্ত করার পর পুলিশের নিরাপত্তায় এখান থেকে তাদের গাড়িতে তুলে দিয়েছি। বর্তমানে তারা সাভার থানায় আছেন। এজাহার দেওয়ার জন্য কাজ করছেন। পুলিশও সেখানে আছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি।"
তদন্ত কমিটি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "ইতোমধ্যে অতিরিক্ত সার্কেল এসপিকে নির্দেশ দিয়েছি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করতে। মামলা হলে ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, যে বা যারা অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। আরেকটি বিষয় জানতে পেরেছি, তখন বিদ্যুৎ চলে যায়। সেই বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করছি। এটাকেও সন্দেহের বাইরে রাখছি না। কোনও কিছু সন্দেহের বাইরে রাখছি না। আমরা তদন্ত করে অবশ্যই দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনবো।"
বিদ্যুৎ বন্ধের ঘটনায় সন্দেহ
হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়াকে সন্দেহে রাখা হয়েছে জানিয়ে এসপি বলেন, "তদন্তের অনেক বিষয় থাকে। কোনও কিছুই আমরা সন্দেহের বাইরে রাখছি না। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেন ওই মুহূর্তে বিদ্যুৎ চলে গেলো। এরপরই বিস্ফোরণটা ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।"
বিস্ফোরণের সময় ও ক্ষয়ক্ষতি
এর আগে রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে সাভারে জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মাসব্যাপী কর্মসূচির পদযাত্রা পরবর্তী সমাবেশস্থলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চার জন আহত হন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত বলেন, "সমাবেশে ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের সময় সমাবেশের মঞ্চে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি এবং মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা আহত হননি।"
প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিবাদী মিছিল করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে বলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি আহতদের দেখতে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান।



