বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) দুটি নীতি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনীতিতে নারীদের উপস্থিতি থাকলেও তা প্রায়শই কর্তৃত্বের পরিবর্তে অলঙ্করণমূলক। অর্থাৎ, নারীরা দৃশ্যমান কিন্তু ক্ষমতাহীন।
রাজনীতিতে নারীর প্রতি বাধা ও সহিংসতা
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রধান বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে দলীয় কাঠামো, অস্বচ্ছ মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং গভীরভাবে প্রোথিত পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা। এসব কারণে নারীরা রাজনীতির মূলধারায় আসতে পারেন না। এমনকি যারা আসেন, তাদের বেশিরভাগকেই ‘নারীর উইং’ বা সংরক্ষিত আসনে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, যেখানে দায়িত্ব থাকলেও সম্পদ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকে না।
রাজনৈতিক সহিংসতা: নারীদের নীরব করার হাতিয়ার
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাজনীতিতে নারীদের প্রতি সহিংসতা এই বর্জনকে টিকিয়ে রাখে। শারীরিক ভয়ভীতি, অনলাইন অপমান বা প্রতিষ্ঠানগত অস্বীকৃতি—এসব নারীদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা। যেসব নারী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বা নেতৃত্ব দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে এই সহিংসতা তাদের কণ্ঠস্বরকে দুর্বল ও বেআইনি করার লক্ষ্যে কাজ করে।
প্রতিবেদনের সুপারিশ: কর্তৃত্বহীন দৃশ্যমানতা নয়
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এগিয়ে যাওয়ার পথ জটিল নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক মনোনয়ন প্রক্রিয়া ভেঙে নারী নেতৃত্বের জন্য স্বচ্ছ পথ তৈরি করতে হবে। রাজনৈতিক হয়রানির বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করতে হবে, যাতে নারীরা নির্বাচনে অংশ নিতে ভয় না পান। গণমাধ্যমকেও লিঙ্গসংবেদনশীল কভারেজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা ও বাস্তবতা
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নারীদের মূলধারার নেতৃত্বে একীভূত করতে হবে—প্রতীকী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নয়, বরং কর্তৃত্বসম্পন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কেবল আসন নয়, প্রয়োজন নিরাপত্তা, বৈধতা ও ক্ষমতা। যতক্ষণ পর্যন্ত নারীদের দৃশ্যমানতার পাশাপাশি কর্তৃত্ব না দেওয়া হবে, ততক্ষণ আমাদের রাজনীতি অসম্পূর্ণ এবং অগ্রগতি আপোসকৃত থাকবে।



