বেরোবিতে ছাত্রলীগ নেত্রী ঐশীর পরীক্ষা না দিয়ে পাসের অভিযোগ ভিত্তিহীন: তদন্ত কমিটি
বেরোবিতে ঐশীর পরীক্ষা না দিয়ে পাসের অভিযোগ ভিত্তিহীন

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও গণিত বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুরাইয়া ইয়াসমিন ঐশী পরীক্ষা না দিয়ে পাস করেছেন—এই অভিযোগের সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি। শনিবার রাতে বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও সিন্ডিকেট সদস্য ড. ইলিয়াছ প্রামাণিক।

তদন্ত প্রতিবেদনের ফলাফল

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ছাত্রলীগ নেত্রী সুরাইয়া ইয়াসমিন ঐশী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং পাস করেছেন। পরীক্ষা না দিয়ে পাস করার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ঐশী পরীক্ষা না দিয়েও পাস করেছেন—এমন অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর জবাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. তানজিউল ইসলামকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—সদস্যসচিব ও গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. হান্নান মিয়া এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াছ প্রামাণিক। তদন্ত কমিটিকে অবিলম্বে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অধ্যাপক রুহুল আমিনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

এ ঘটনায় একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিনকে অর্থ ও হিসাব দফতরের পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্তে উঠে এসেছে, ঐশীর পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই নিয়েছিলেন অব্যাহতি পাওয়া অধ্যাপক রুহুল আমিন। ফলে পরীক্ষা দেননি কিংবা ক্যাম্পাসের বাইরে পরীক্ষা দিয়েছেন—এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত কমিটির সদস্য ড. মো. ইলিয়াছ প্রামাণিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পরীক্ষা না দিয়েই পাস এবং শিক্ষক ক্যাম্পাসের বাইরে পরীক্ষা নিয়েছেন, এসব অভিযোগের কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি। ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছিলেন ক্যাম্পাসে তবে নির্ধারিত সময়ের পরে। তবে পরীক্ষা ক্যাম্পাসেই নেওয়া হয়েছিল। তার পরীক্ষা নিয়েছিলেন অর্থ ও হিসাব দফতরের পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক রুহুল আমিন। পরীক্ষা না দিয়ে পাস করার অভিযোগ ছিল পুরোপুরি মিথ্যা।’

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেই

এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ড. ইলিয়াছ প্রামাণিক বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থী ঐশী পরীক্ষা দিয়েই পাস করেছেন। সে সময়ের নিয়ম অনুযায়ী মিডটার্ম পরীক্ষা পরে দেওয়ার সুযোগ ছিল। বর্তমানে সেই সুযোগ আর নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পরীক্ষা না দিয়ে পাস করানো হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছিল, তদন্তে এর কোনও সত্যতা পায়নি এ ঘটনায় গঠিত কমিটি। পরীক্ষা দিয়েই পাস করেছেন ওই শিক্ষার্থী, এটি প্রমাণিত হয়েছে।’

প্রেক্ষাপট

সুরাইয়া ইয়াসমিন ঐশী ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রথম সারিতে তাকে দেখা যেতো। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ হত্যার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর গণিত বিভাগের মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের মিডটার্ম পরীক্ষায় তিনি অংশ নেন। এরপর অভিযোগ ওঠে, পরীক্ষা না দিয়ে তাকে পাস করানো হয়েছে।

ওই সময় ঐশীর সহপাঠীরা দাবি করেছিলেন, নির্ধারিত সময়ের মিডটার্ম পরীক্ষায় তারা ঐশীকে অংশ নিতে দেখেননি। তবে ঐশী শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তার দাবিই সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।