রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলার বরুনাছড়ি এলাকায় গৃহবধূ আয়েশা বেগম হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক কিশোরসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের পর লুট হওয়া নগদ ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন ১৭ বছরের এক কিশোর (নাম প্রকাশ করা হয়নি) ও ওমর আলী (১৯)। তারা দুজনই বরনাছড়ি (ইসলামপুর) এলাকার বাসিন্দা।
হত্যার কারণ ও পরিকল্পনা
পুলিশ জানায়, গেল কোরবানির ঈদে গরু বিক্রি করেছিলেন আয়েশা বেগম (৪৯)। সেই টাকা বাড়িতে রেখেছিলেন তিনি। বাড়িতে প্রায় ৩ লাখ টাকা থাকার খবরে পেয়ে সেগুলো লুটের পরিকল্পনা করেন ওই কিশোর ও ওমর। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার বিকেলে বরকল থানার ১ নম্বর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বরনাছড়ি (ইসলামপুর) এলাকায় নিজ বসতঘরে গৃহবধূ আয়েশাকে হাতুড়ি ও ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পুলিশের পদক্ষেপ
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ব্যবহৃত একটি ইট ও একটি হাতুড়ি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আশরাফ আলী বাদী হয়ে বরকল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধার
মামলাটি দায়েরের পর রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে বরকল থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে গত বুধবার সকালে মামলার সংশ্লিষ্ট দুই আসামিকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোহাগের বাড়ি থেকে ১ লাখ ৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ওমর আলীর বাড়ির দক্ষিণ পাশের একটি বাগানের মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে আরও ৯৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
মোট উদ্ধার ও পুলিশের বক্তব্য
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া অর্থের মোট পরিমাণ ১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, যা হত্যাকাণ্ডের সময় লুট করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, ‘ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।’



