যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট সাসেক্সে এক অটিস্টিক শিশুকে ধর্ষণ ও অনলাইনে নিপীড়নের উদ্দেশ্যে ফাঁদ পাতার দায়ে তারেক মিয়া (২০) নামের এক বাংলাদেশি তরুণকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পোর্টসমাউথ ক্রাউন কোর্টের বিচারক মাইকেল বোস কেসি এই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও তিন বছর তাকে কঠোর রাষ্ট্রীয় নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শৈশব থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাস
তারেক মিয়া মাত্র তিন বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে অভিবাসী হয় এবং ওয়েস্ট সাসেক্সের ওর্থিং এলাকায় বসবাস শুরু করে। আদালতে সে তার বিরুদ্ধে আনা চারবার শিশু ধর্ষণসহ মোট আটটি গুরুতর অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।
আদালতে আইনজীবীর দাবি প্রত্যাখ্যান
মামলার শুনানিতে তারেক মিয়ার আইনজীবী দাবি করার চেষ্টা করেন যে, তার পারিবারিক সংস্কৃতির কারণে নারী শিশুদের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে এবং তার মধ্যে ইংরেজ নৈতিক মূল্যবোধের ঘাটতি ছিল। এই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে প্রসিকিউটর স্টিভেন মলয় আদালতে বলেন, সে মাত্র তিন বছর বয়স থেকে এই দেশে বসবাস করছে। তাই যুক্তরাজ্যের আইন এবং নৈতিক মূল্যবোধ তার পুরোপুরি মেনে চলা উচিত ছিল।
অপরাধের বিবরণ
তারেক মিয়া টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে ১২ বছর বয়সী এক অটিস্টিক শিশু এবং অপর একটি ৯ বছর বয়সী শিশুকে টার্গেট করে। ২০২৩ সালের আগস্টে সে অটিস্টিক শিশুটিকে গাড়িতে করে বন্ধুর বাসায় নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে সে ৯ বছর বয়সী অপর শিশুটিকে আপত্তিকর ভিডিও পাঠায় এবং তাকেও অনুরূপ ভিডিও পাঠাতে বাধ্য করে।
জামিনে থাকা অবস্থায়ও অপরাধ চালিয়ে যাওয়া
তদন্তকালে জামিনে থাকা অবস্থাতেও সে ইন্টারনেটে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সন্ধান করা বন্ধ করেনি। পরে পুলিশ তার ডিজিটাল ডিভাইস থেকে নিষিদ্ধ আপত্তিকর ছবি উদ্ধার করে। আদালত ভুক্তভোগী শিশুদের সুরক্ষায় তারেক মিয়ার বিরুদ্ধে ১৮ বছরের জন্য একটি বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
বিচারকের মন্তব্য
রায়ের সময় বিচারক তারেক মিয়াকে কোমলমতি শিশুদের জন্য ‘অত্যন্ত উচ্চ ও আসন্ন ঝুঁকিপূর্ণ’ এক শিকারি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়েছে, এই নৃশংস ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুরা তীব্র মানসিক ট্রমা, ভীতি এবং হ্যালুসিনেশনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা তাদের স্বাভাবিক শৈশবকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।
দেশত্যাগের সম্ভাবনা
জানা গেছে, দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করার পর বিদেশি নাগরিক হিসেবে তারেক মিয়াকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি এখন যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।



