২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরির ঘটনায় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল, কিন্তু পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। ফলে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালত আগামী ৯ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এ নিয়ে ৯৬তম বারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়ানো হলো।
মামলার পটভূমি ও তদন্তের ধারা
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে সাইবার হামলার মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দেশের ভেতরের একটি চক্রের সহায়তায় ওই অর্থ পাচার করা হয়েছিল। ঘটনার পর ওই বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের তৎকালীন উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা মতিঝিল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন। পরদিন ১৬ মার্চ আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেয়। এরপর থেকে সংস্থাটি মামলাটির তদন্ত করছে।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বারবার পিছিয়ে যাওয়ার কারণ
মামলাটি দায়েরের পর থেকে এ পর্যন্ত ৯৬ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবারই সিআইডি সময়মতো তদন্ত শেষ করতে না পারার কারণে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করে দেয়। গত কয়েক বছর ধরে এ মামলায় কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে আইনজীবী ও সূত্রগুলো জানিয়েছেন।
আদালতের সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সিআইডি প্রতিবেদন দিতে পারেনি। তাই আদালত ৯ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।’ মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তারা এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে পারেননি।
মামলার গুরুত্ব ও প্রভাব
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাইবার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও দেশের অর্থনীতির সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে মামলাটি এখনো সমাধানের পথে নেই। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের জটিল মামলায় দ্রুত তদন্ত শেষ করা জরুরি, অন্যথায় অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারে।



