ভারতের বেঙ্গালুরুতে মাত্র ১১ মাস বয়সি এক কন্যাসন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে শিশুটির বাবা-মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ জুলাই) পুলিশের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের চমক
পুলিশ জানায়, শিশুটির বাবা শেকিয়াপ্পা শুরুতে থানায় এসে দাবি করেছিলেন, তার স্ত্রী বিজয়লক্ষ্মী স্তন্যপান করানোর সময় ঘুমিয়ে পড়লে শিশুটি খাট থেকে নিচে পড়ে গিয়ে মারা যায়। তার এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পরবর্তী তদন্তে উঠে আসে যে, বাবা-মায়ের দেওয়া বিবৃতির সঙ্গে মরদেহের আঘাতের চিহ্নের কোনো মিল নেই। এর পরেই পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এনে গ্রেফতার করে।
ঘটনার বিবরণ
হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটে গত ৯ জুন পূর্ব বেঙ্গালুরুর আভালাহাল্লি থানা এলাকার কিতাগানুর গ্রামে। শেকিয়াপ্পা প্রথমে পুলিশকে জানিয়েছিলেন, খাট থেকে পড়ে যাওয়ার পর শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
তবে গত ২২ জুন আসা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে এক ভয়ানক সত্য উন্মোচিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, একাধিক অভ্যন্তরীণ আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং শ্বাসযন্ত্রের জটিলতায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে মুখে, বুকে, পায়ে এবং গোপনাঙ্গে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন যে, খাটটির উচ্চতা ছিল মাত্র দুই ফুট। তারা নিশ্চিত হন যে, মাত্র দুই ফুট উচ্চতার খাট থেকে পড়ে গিয়ে কোনো শিশুর শরীরে এত মারাত্মক ও একাধিক অভ্যন্তরীণ আঘাত লাগা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
ঝগড়া ও হত্যাকাণ্ড
পুলিশি তদন্তে জানা যায়, গত ৯ জুন দুপুরে শেকিয়াপ্পা যখন দুপুরের খাবার খেতে বাড়িতে আসেন, তখন স্ত্রী বিজয়লক্ষ্মীর সঙ্গে তার তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে শিশুটি কাঁদতে শুরু করলে ক্ষিপ্ত হয়ে বিজয়লক্ষ্মী তাকে লাথি মারেন। এতে পাশে থাকা শেকিয়াপ্পা চরম উত্তেজিত হয়ে শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে সজোরে মাটিতে আছাড় মারেন, যার ফলে শিশুটির শরীরে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ আঘাত লাগে।
প্রতিবেশীদের বক্তব্য
পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে নেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী এই দম্পতির মধ্যে প্রায়ই তীব্র ঝগড়া হতো। সাক্ষীদের দাবি, বিজয়লক্ষ্মীর এক প্রতিবেশীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল এবং নিজের সন্তানের প্রতি তার কোনো স্নেহ-মমতাও ছিল না।
আইনি ব্যবস্থা
চিকিৎসাগত প্রমাণ, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আভালাহাল্লি পুলিশ শিশুটির বাবা শেকিয়াপ্পা এবং মা বিজয়লক্ষ্মীর বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’-এর ধারা ১০৩(১) এবং ধারা ৩(৫) অনুযায়ী একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। ঘটনাটির বিষয়ে পরবর্তী আইনি তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



