বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণ মামলার রায় বুধবার
বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণ মামলার রায় বুধবার

চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় বুধবার রায় দেবে আদালত। মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রায়ের জন্য এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

রায় ঘোষণা বুধবার

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা বুধবার রায় ঘোষণা করবেন। তিনি বলেন, ‘আজ যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে, আগামীকাল রায় ঘোষণা করা হবে।’ পাঁচ কার্যদিবসে সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামির জবানবন্দি ও যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঘটনার ২৫ দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করা হবে।

সাক্ষ্য ও জবানবন্দি

গত বুধবার থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়, যা রোববার শেষ হয়। তিন কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। সোমবার জবানবন্দিতে আসামি মোনির হোসাইন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে তার পক্ষে কোনো প্রতিরক্ষা সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • আসামি মোনির হোসাইন (৩২) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘাড়ঘাটা এলাকার বাসিন্দা।
  • চট্টগ্রামে তিনি বাকলিয়ার মিঁয়া খান নগরে থাকতেন এবং চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় একটি সাজঘরের দোকানে কাজ করতেন।

ঘটনার বিবরণ

গত ২১ মে বিকেলে ওই এলাকায় মোনির সাড়ে তিন বছরের শিশুটিকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে। তবে থানায় নেওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন এবং আসামির শাস্তি নিজেরাই নিশ্চিত করতে চান বলে জানান। দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর পুলিশ সন্ধ্যায় কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা একটি পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। বারবার সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। অন্তত ৪০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে সাংবাদিকরাও ছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সেদিন শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নেওয়া হয়। শিশুটির বাবা বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় ২২ মে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে আসামি মোনিরকে হাজির করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তদন্ত ও চার্জশিট

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূঁইয়া বলেন, ‘ঘটনার দিন শিশুটির বাবা ঢাকায় ও মা একটি গার্মেন্টসে কাজ করছিলেন। শিশুটি তার দাদির কাছে ছিল। সেই সুযোগে মোনির শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণ করে। মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর এটি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ দুই সপ্তাহ তদন্তের পর ৪ জুন বাকলিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পরিদর্শক তানভীর আহমেদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের (২০০৩ সালে সংশোধিত) ৯(১) ধারায় মোনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় মোট ২২ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। ৯ জুন বিচারক সৈয়দা হাফসা মোনিরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন এবং বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। পরের দিন সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।