ঢাকার সূত্রাপুরে ভুয়া গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ১১ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় এক প্রতারক গ্রেফতার
সূত্রাপুরে ভুয়া গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে প্রতারক গ্রেফতার

সূত্রাপুরে ভুয়া গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে প্রতারক গ্রেফতার

পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় ভুয়া গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় পুলিশ এক প্রতারক চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. আলামিন, যার বয়স ৫১ বছর। তিনি ডিবি পুলিশের সদস্য হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে একজন নারীর কাছ থেকে সাড়ে ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি সূত্রাপুর থানা পুলিশের বরাত দিয়ে জানান, গত ৫ এপ্রিল দুপুরে সূত্রাপুরের লক্ষ্মীবাজার এলাকার এক নারীকে মোবাইল ফোনে কল করে প্রতারক চক্র। এই সময় তারা নিজেদের পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে ওই নারীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করে।

পরে হিসাব ভেরিফিকেশনের অজুহাত দেখিয়ে তারা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সূত্রাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যা পুলিশের তদন্তের দিকে পরিচালিত করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেফতার ও উদ্ধারকৃত সামগ্রী

তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ আজ ভোররাতে দারুসালামের বাতেন নগর এলাকায় একটি অভিযান চালিয়ে আলামিনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১৭টি মোবাইল ফোন, ৬৬টি সিমকার্ড, তিনটি বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড, একটি চেকবই, ইউএস ১০০ ডলারের ছয়টি নোট, প্রতারণা লব্ধ নগদ ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং একটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আলামিন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তার সঙ্গে দেশি-বিদেশি প্রতারকদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। এই চক্রটি সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাংক হিসাব খুলিয়ে নেয় এবং সেই হিসাবের মাধ্যমে প্রতারণার অর্থ লেনদেন করে। পরবর্তীতে এই অর্থ ডলারে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানো হয়, যা একটি আন্তর্জাতিক প্রতারণা নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয়।

পুলিশ এখন আরও তদন্ত চালিয়ে এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। এই ঘটনা নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করার পরামর্শ দিচ্ছে।