রমনা বটমূল বোমা হামলা মামলায় রায় প্রকাশে বিলম্ব, আইনি প্রক্রিয়া স্থবির
রমনা বটমূল মামলায় রায় প্রকাশে বিলম্ব, আইনি প্রক্রিয়া স্থবির

রমনা বটমূল বোমা হামলা মামলায় রায় প্রকাশে বিলম্ব, আইনি প্রক্রিয়া স্থবির

বাংলাদেশের বহুল আলোচিত রমনা বটমূল বোমা হামলার ঘটনায় হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। তবে রায়ের প্রায় ১১ মাস পার হলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়নি। ফলে রায়ের কপি প্রকাশ না হওয়ায় মামলাটি পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হতে পারছে না। আইনজীবীরা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরই আপিল বিভাগে শুনানির পথ সুগম হবে।

ঘটনার পটভূমি ও বিচারিক প্রক্রিয়া

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদের (হুজি) জঙ্গিদের বোমা হামলায় ১০ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও অনেকে। এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

পরে ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দুটি সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রুহুল আমিন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হুজির শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, মাওলানা তাজউদ্দিনসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আসামিদের তালিকা ও সাজা

মুফতি হান্নান ছাড়াও মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলো- মাওলানা তাজউদ্দিন, মওলানা আকবর হোসেন, মুফতি আব্দুল হাই, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মুফতি শফিকুর রহমান ও মাওলানা আরিফ হাসান সুমন। এর মধ্যে মুফতি আবদুল হান্নানের পৃথক একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, হাফেজ মওলানা আবু তাহের, মওলানা সাব্বির ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির, হাফেজ মওলানা ইয়াহিয়া, মওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মওলানা আব্দুর রউফ ও শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল।

হাইকোর্টের রায় ও বর্তমান অবস্থা

পরে ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়। এরপর ওই বছরের ১৪ মার্চ চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ঠিক করা হয়। পরে আদালত মামলাটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। এরপর মামলাটি যায় বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি এ এসএম আব্দুল মোবিনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে। সেখানে দীর্ঘদিন থাকার পরও মামলাটি শুনানি হয়নি।

মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৩ মে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাওলানা তাজ উদ্দিন ও জুয়েলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন হাইকোর্ট। এছাড়াও ৯ আসামির সাজা কমিয়ে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

আইনজীবীদের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

রায়ের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, হাইকোর্টের রায় ঘোষণা হলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়নি। অনুলিপি প্রকাশের পর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে তারা আপিল করবেন। এরপর বিষয়টি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য উঠবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। তিনি দ্রুত রায়ের অনুলিপি প্রকাশের দাবি জানান।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, বমনার বটমূলে হামলার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা আরেকটি মামলার রায় এখনও হয়নি।