জুলাই আন্দোলনে ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় ডিজিএফআই সাবেক কর্মকর্তার রিমান্ড মঞ্জুর
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এই আদেশ দেন, যা আইনি প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আদালতে রিমান্ড আবেদন ও শুনানি
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. আমজাদ হোসেন তালুকদার আসামিকে আদালতে হাজির করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রধান কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যা মামলার অগ্রগতির দিকে ইঙ্গিত করে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন সরকারি কৌঁসুলি আজিজুল হক, যিনি তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ফরিদ ও কালাম হোসেন, যারা তাদের ক্লায়েন্টের অধিকার রক্ষার দাবি জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন, যা একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তার অভিযোগ ও মামলার পটভূমি
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের ঊর্ধ্বতন নেতাদের নির্দেশে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরী এই হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ওবায়দুল কাদেরের পরিচিত হওয়ায় নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা করেন এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও আর্থিক সহায়তাও দিয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়, যা মামলার গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিউমার্কেট এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি ও হামলা চালানো হয়, যাতে ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের শ্যালক আবদুর রহমান বাদী হয়ে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন, যা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতার প্রতিফলন।
এই মামলাটি বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে রেকর্ড হয়ে থাকবে, যেখানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তের আওতায় আসছে। আদালতের সিদ্ধান্ত এখন তদন্তকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



