ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে পুলিশের রাতের অভিযান, প্রার্থীর বাড়িতে চাপের অভিযোগ
ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে পুলিশের রাতের অভিযান

ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে পুলিশের রাতের অভিযান

ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচনের আগের দিন গভীর রাতে পুলিশের একটি দল স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাক আলমের বাড়িতে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মোস্তাক আলমসহ আওয়ামী লীগের সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পুলিশের বাড়িতে যাওয়ার ঘটনা

প্রার্থী মোস্তাক আলমের বাড়িতে বুধবার গভীর রাতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল যায়। তখন মোস্তাক আলম বাড়িতে না থাকলেও তাঁর স্ত্রী ও ছেলে বাসায় ছিলেন। মোস্তাক আলমের দাবি, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে যেতে চাপ দিতেই আমার বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’

মোস্তাক আলমের ছেলে নিমগ্ন তানভির অর্পণ বলেন, ‘পুলিশ গেটে দাঁড়িয়ে ছিল এবং তারা বাবাকে ডেকে দিতে বলেছিল। পরে এক পুলিশ কর্মকর্তা মাকে বলেন, “ভাবি ওপর থেকে নির্দেশনা আসছে, ভাইকে বলবেন, এ সময় নির্বাচন করার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি যেন সবাইকে নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান।” তবে তিনি উল্লেখ করেন যে পুলিশ কোনো অশোভন আচরণ করেনি, কিন্তু রাত চারটার দিকেও বাড়ির সামনে ঘোরাঘুরি করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের ব্যাখ্যা ও সমিতির প্রতিক্রিয়া

অভিযোগ অস্বীকার করে সদর থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, ‘ভোটে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে আমি সেখানে গিয়েছিলাম।’ তবে গভীর রাতে প্রার্থীর বাড়িতে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি গোলাম রব্বানী বলেন, ‘একজন প্রার্থীর বাড়িতে পুলিশ যাওয়ার কথা শুনেছি। কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুলিশ পাঠিয়ে থাকে, তা ঠিক হয়নি। আবার এমনও হতে পারে, ভোটারদের সহানুভূতি পেতে কেউ বিষয়টি প্রচার করছেন।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নির্বাচনের পটভূমি

ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৪ মার্চ বার্ষিক সাধারণ সভায় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ৩০ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে ১২টি পদের বিপরীতে ৩২ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। পরে দুজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।

এই নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীরা ছাড়াও আওয়ামী লীগের মোস্তাক আলমসহ দলটির সাতজন স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোস্তাক আলম কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে, তবে পুলিশের এই ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপের বিষয়টি উদ্বেগজনক হতে পারে।