আইনমন্ত্রীর ঘোষণা: বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়ন এবং সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।
গত ১৭ বছরের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমালোচনা
মন্ত্রী তার বক্তব্যে গত ১৭ বছরের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন যে, এই সময়ে ফ্যাসিস্ট আমলে সুপ্রিম কোর্টে এমন নিয়োগ হয়েছে, যেখানে পার্টি ক্যাডারদেরকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, "আমরা চাই না যে বাংলাদেশে আর কোনো মানিকের জন্ম হোক। আমরা চাই না বাংলাদেশে আর কোনো খায়রুল হক গজিয়ে উঠুক। আমরা চাই না আর কোনো বিচার বিভাগীয় কিলিং হোক।" তার এই মন্তব্য বিচার বিভাগে সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।
নতুন আইন ও সংবিধান সংশোধনের পরিকল্পনা
মো. আসাদুজ্জামান উল্লেখ করেন যে, তার সরকার বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করবে। পাশাপাশি, সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের স্বচ্ছতা, মানদণ্ড ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, "আমরা চাই, সুপ্রিম কোর্টে ভালো বিচার হোক। সুপ্রিম কোর্ট মানুষের ন্যায়বিচারের আস্থার জায়গা হয়ে উঠুক এবং বাংলাদেশের বিচার বিভাগ পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করুক।"
সংসদে বিল পাশ ও বিরোধিতার জবাব
এই বক্তব্য দেওয়া হয় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬ পাশ করার সময়। রংপুর ৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এই বিলের বিরোধিতা করলে, আইনমন্ত্রী তার জবাবে উপরোক্ত কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন যে, অতীতে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সরকারের পক্ষে কাজ করলেও, বর্তমানে তিনি নতুন সরকারের নীতির আলোকে স্বচ্ছতা ও সংস্কার এর উপর জোর দিচ্ছেন। তিনি বলেন, "আমি এখন এই সরকারের মন্ত্রী এবং এই পার্লামেন্টের সংসদ সদস্য। আমার সরকারের পাবলিক পলিসি হলো- বিচার বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ণরূপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও যোগ্যতার মানদণ্ড নিরূপণের জন্য আমরা নতুন করে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।"
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আশাবাদ
আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ একটি স্বচ্ছ, স্বাধীন ও সক্রিয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখারও গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, "আমরা চাই, যার যার ফাংশন সেই সেই করুক। আমরা চাই, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেওয়া রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে সঠিক পথে যেতে একটি সাংবিধানিক কমিটি গঠন করে চুলচেরা বিশ্লেষণ করি।" এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিচার বিভাগীয় সংস্কারের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।



