বিচার বিভাগের কালো দিন: সংসদে সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল, আইনজীবীর তীব্র প্রতিবাদ
বিচার বিভাগের কালো দিন: সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল

বিচার বিভাগের ইতিহাসে কালো অধ্যায়: সংসদে সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিতকরণকে বিচার বিভাগের কালো দিন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি দেশের সব বিচারক ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কালো ব্যাজ ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তীব্র প্রতিক্রিয়া

সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিচার বিভাগের জন্য একটি পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী নভেম্বরে সচিবালয়ের অর্ডিনেন্স পাস হয় এবং ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হয়। এমনকি এই সচিবালয়ের আংশিক কাজও শুরু হয়েছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, আজ সংসদ অধিবেশনে সেই সচিবালয় সংক্রান্ত অর্ডিনেন্সটি রহিত বা বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনাকে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় বলেও অভিহিত করেন শিশির মনির। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যে সচিবালয় যাত্রা শুরু করেছিল, আইনি প্রক্রিয়ায় সেটিকে আজ বিলুপ্ত করা হলো।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের যুক্তি ও আইনজীবীর প্রত্যাখ্যান

বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে যে, হাইকোর্টের এ রায় আপিল নিষ্পত্তির পর কার্যকর হবে। তবে শিশির মনির এই ব্যাখ্যাকে সঠিক নয় বলে মনে করেন। তার মতে, রায় বাস্তবায়নের পর পুনরায় এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি নেতিবাচক লক্ষণ বা ব্ল্যাক সিমটম হিসেবে থেকে যাবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির আরও বলেন, আমি মনে করি এ ঘটনার জন্য সারা দেশের বিচারক এবং আইনজীবীদের কালো ব্যাজ ধারণ ও মুখে কালো কাপড় করা উচিত। এভাবে কী কোনও একটি অঙ্গের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া যায়? এটি হলো একটি বিরল নজির। আমরা আশা করবো এগুলো থেকে সরকার ফিরে আসবে। যে সংগ্রামের ভিত্তিতে স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছিল সেটি খামখিয়ালি কিংবা জেদের বসে এসব কাজের মাধ্যমে নষ্ট করা মোটেও সমীচীন হচ্ছে না।

আইনি প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আমি শুনেছি গতকাল (বুধবার, ৮ এপ্রিল), অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন তারা আপিল ফাইল করবেন। যেহেতু সার্টিফিকেট আছে, তারা বলেছেন এ রায়ের কার্যকারিতা থাকবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত এ ডাইরেকশনের ওপরে কোনও স্থগিতাদেশ না থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত এটি মানতে সরকারসহ সব কর্তৃপক্ষ বাধ্য।

শিশির মনির বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তারা সুপ্রিম কোর্টে (আপিল বিভাগে) যাননি, সিএমপি ফাইল করেননি এবং সিপি ফাইল করেও কোনও আদেশ পাননি। কিন্তু কার্যকর হবে না এই যে ব্যাখ্যা, এটি সংবিধানের লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, এই নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, কীভাবে পার্লামেন্টে এমন আইন পাশ করা সম্ভব হলো? বিলুপ্ত করা হলো সেই রায়ের কনসনার্সে যে অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। সরকার বা পার্লামেন্ট না থাকায় সেই অধ্যাদেশ কার্যকর হয়নি। এখন রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বের হওয়ায়, সেই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করার সময় পুরো অধ্যাদেশই রিপিল বা বাতিল করা হচ্ছে। এটি বিচার ব্যবস্থার ওপর পুনরাবৃত্ত হামলা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

শিশির মনির আরও বলেন, যারা সংসদে এই আইন পাশ করছেন করেন। কিন্তু বিষয়টি আবার সুপ্রিম কোর্টে সমন্বয়ের জন্য উপস্থাপন করা হবে। আমরা এই আইন চ্যালেঞ্জ করে অবশ্যই উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করব।