মোহাম্মদপুর হত্যাকাণ্ড মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো, ১৫ এপ্রিল নতুন তারিখ নির্ধারণ
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী ১৫ এপ্রিল এ বিষয়ে শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে। এই মামলায় মোট ২৮ জন আসামি রয়েছেন, যাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন মেয়র এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখযোগ্য।
শুনানি পেছানোর কারণ ও ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত
বুধবার (৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানির তারিখ পরিবর্তনের আদেশ দেন। মূলত আজই এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ জানান, প্রসিকিউশনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তারা পাননি।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শাইখ মাহদী শুনানিতে অংশ নেন। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী ১৫ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করে। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবুল হাসান ব্যাখ্যা দেন, "ডিফেন্সকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করেনি প্রসিকিউশন। এ কারণে আজ শুনানি হয়নি। আমরা শুধুমাত্র ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগের কপিই পেয়েছি। বাকি ডকুমেন্টসও আমরা প্রসিকিউশনের কাছে চেয়েছি। আশাকরি, আগামী তারিখের আগেই আমরা পাবো।"
মামলার আসামি ও বর্তমান অবস্থা
এই মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিদের তালিকায় রয়েছেন:
- সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস
- ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান
- সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার
- ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার
এছাড়াও স্থানীয় কাউন্সিলর, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরও আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন চারজন আসামি: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ
গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত ২৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এই মামলায় আনা তিনটি অভিযোগে প্রসিকিউশন দাবি করে, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়।
এই ঘটনায় মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ মোট ৯ জন শহীদ হন এবং আরও অনেকে আহত হন। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলাটি দেশের আইনি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং আগামী ১৫ এপ্রিলের শুনানিতে এর অগ্রগতি নিয়ে সবার দৃষ্টি থাকবে।



