ময়মনসিংহের ত্রিশালে জমি বিরোধের জেরে আলামিন হত্যা মামলায় পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ত্রিশালে আলামিন হত্যা মামলায় পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জমি বিরোধের জেরে আলামিন হত্যা মামলায় পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত আলামিন হত্যা মামলায় পাঁচজন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পরিচয়

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মোক্ষপুরের সেনের চকপাড়া গ্রামের মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে আব্দুর রশিদ (৪১) ও জসিম উদ্দিন (৫০), জসিম উদ্দিনের স্ত্রী হুরেনা খাতুন ও ছেলে রিয়াদ (২৫) এবং আব্দুর রশিদের মেয়ে জোনাকি আক্তার (৩৮)। আদালত তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মোক্ষপুর সেনের হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে জসিম উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে ২০২৩ সালের ১৯ জুন দুপুরে জসিম উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন দা, বলছিড়াসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাফিজুল ইসলামের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ সময় বাড়িতে হাফিজুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা অনুপস্থিত থাকায় প্রবাসী ভাই কামরুজ্জামানের স্ত্রী নূরজাহানের ওপর হামলা চালিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ঘটনাস্থলে নূরজাহানের ছেলে আলামিন মায়েকে ফেরাতে এগিয়ে এলে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে অভিযুক্তরা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা দায়ের ও বিচার প্রক্রিয়া

পরদিন নিহত আলামিনের চাচা হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ত্রিশাল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের দিনই পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। বিচার প্রক্রিয়ায় মামলায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তি-তর্ক ও শুনানি শেষে আদালত আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেন।

আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আকরাম হোসেন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মামলাটি পরিচালনা করেন, তবে রায়ের পর তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। এই মামলাটি স্থানীয়ভাবে আইনের শাসন ও সম্পত্তি বিরোধের ভয়াবহ পরিণতির একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।