বনানীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, আদালতের কঠোর রায়
শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বনানীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

রাজধানীর বনানীতে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে একটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আসামি নাসির সিকদারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালতে এই কঠোর রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিস্তারিত ঘটনা

মামলার ঘটনায় জানা যায়, ২০২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে নাসির সিকদার বার বছরের ভিকটিম মেয়েটিকে বনানীর কড়াইল বস্তির নিজ রুমে ডেকে নেয়। সেখানে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তাকে অচেতন করে ধর্ষণ করে। এই নির্মম ঘটনার ফলে শিশুটি অন্তঃস্বত্তা হয়ে যায়।

ঘটনাটি প্রকাশ পেলে শিশুটির পিতা নাসির সিকদারকে আসামি করে বনানী থানায় মামলা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছয়জন সাক্ষী এই মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দেন, যা অভিযোগ প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের রায় ও শাস্তির বিধান

বিচারক মাসরুর সালেকীন ধর্ষণের অভিযোগে নাসির সিকদারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়াও, তাকে দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই দুই লক্ষ টাকা দণ্ডিতের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ হতে আদায় করে ভিকটিমকে প্রদান করতে হবে। এই দায়িত্ব জেলা কালেক্টরকে পালন করার জন্য আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডিত আসামিকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়। নাসির সিকদার বনানীর কড়াইল বস্তির মোকসেদ সিকদার ও মিনারা বেগমের ছেলে হিসেবে পরিচিত।

অতিরিক্ত শাস্তি ও আইনি প্রক্রিয়া

আদালত ভিকটিমকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোর অভিযোগেও নাসির সিকদারকে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এই মামলাটি শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার কঠোরতা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিচারক তার রায়ে শিশু সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন, যা সামাজিকভাবে একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে। এই সিদ্ধান্ত শিশু অধিকার রক্ষায় আদালতের দৃঢ় অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।