আদালতে শিরীন শারমিনের পতন: কারাগারে প্রেরণের পর উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কি
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী দেড় বছরের বেশি সময় নিরুদ্দেশ থাকার পর গ্রেফতার হয়ে কারাগারে প্রেরিত হয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের কোটা সংস্কার আন্দোলনকালীন একটি হত্যাচেষ্টার মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০ মিনিটের শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কি
এই আদেশের পরপরই আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা স্লোগান তুলতে শুরু করলে তাদের সঙ্গে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের ধাক্কাধাক্কি হয়। শিরীন শারমিনকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময়ও একই ধরনের উত্তেজনা দেখা দেয়, যা আদালতের পরিবেশকে অশান্ত করে তোলে।
সিঁড়িতে ভারসাম্য হারানো: পড়ে গেলেন নাকি পড়েননি?
আদালত থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ভিড়ের মধ্যে নিচতলার সিঁড়িতে শিরীন শারমিন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে টেনে তোলেন। তবে ঢাকা সিএমএম আদালতের হাজতখানায় দায়িত্বরত উপপরিদর্শক মো. মোরশেদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, "উনি পড়েননি। শেষ সিঁড়িতে এসে তার পা একটু বেঁকে যায়। আমাদের নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে চারদিক থেকে ধরে রাখেন। তিনি পড়েননি।"
রিমান্ড আবেদন বনাম জামিনের আবেদন
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দুই দিন রিমান্ডের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি দাবি করেন, শিরীন শারমিন "ফ্যাসিস্টের সহযোগী" ছিলেন এবং "ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে আন্দোলনে গুলি চালানোর নির্দেশ" দেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তারা যুক্তি দেখান, এজাহারে শিরীন শারমিনের নাম ছাড়া তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
মামলার পটভূমি ও গ্রেফতার
এই মামলাটি দায়ের করা হয় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে গুলিবর্ষণে মো. আশরাফুল (ফাহিম) স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং শিরীন শারমিনসহ অন্যান্য আসামিদের প্রত্যক্ষ মদতে এই হামলা চালানো হয়। মামলার ৩ নম্বর আসামি হিসেবে গত রাতে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
শিরীন শারমিন চৌধুরী আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে পরিচিত এবং তিনি বিনা ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। আদালত তার জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। এই ঘটনা বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



