হানি ট্র্যাপে স্কুলশিক্ষক নির্যাতন: লাইলি আক্তার গ্রেফতার, পর্নোগ্রাফি মামলায় জেলে
কুমিল্লার দেবিদ্বারে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে স্কুলশিক্ষক মোকবল হোসেন মাস্টারকে নির্যাতন ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত লাইলি আক্তারকে (৩৫) গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নির্যাতনের ভিডিওর সূত্র ধরে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দেবিদ্বার থানা পুলিশ এই অভিযান চালায়।
মামলা ও গ্রেফতারের বিস্তারিত
ভুক্তভোগী মোকবল হোসেন মাস্টার অভিযুক্ত লাইলি আক্তারকে এজাহারভুক্ত করে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় অজ্ঞাত তিন নারী ও পাঁচ পুরুষের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। লাইলি আক্তার দেবিদ্বার উপজেলার ঘোষঘর গ্রামের আব্দুর রশিদ মিয়ার মেয়ে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মোকবল হোসেন মাস্টার জানান, তার আত্মীয় ইমনের সঙ্গে লাইলি আক্তারের গাড়ি বিক্রির লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসার জন্য তাকে ডাকা হয়েছিল। গত ৬ এপ্রিল মসজিদে নামাজ পড়ে বের হওয়ার পর লাইলি আক্তার তাকে নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে বিষয়টি আলোচনার কথা বলেন। সেখানে যাওয়ার পর তিনজন নারী ও পাঁচজন পুরুষ তাকে আটক করে ফেলে এবং তার আত্মীয়র কাছ থেকে পাওয়া টাকা আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে।
নির্যাতন ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি
মোকবল হোসেন মাস্টারের দ্বিমত পোষণ করায় জোরপূর্বক তার সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা করে ভিডিও ধারণ করে দলটি। পরবর্তীতে তাকে মারধর ও নির্যাতন করে আরেকটি ভিডিও তৈরি করা হয়। এই গোপন ভিডিওগুলো ব্যবহার করে তাকে জিম্মি করে প্রথমে তার পকেট থেকে ৭ হাজার টাকা এবং তার আত্মীয় ইমনের কাছ থেকে ফোনে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
এছাড়াও আরও নগদ ১ লাখ টাকা জিম্মি করে আদায় করা হয় বলে ভুক্তভোগী দাবি করেছেন। মোকবল হোসেন মাস্টারকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই পুলিশ বিষয়টি তদন্তে এগিয়ে আসে।
হানি ট্র্যাপ চক্রের বিস্তৃত কার্যক্রম
ঘটনার পর থেকে লাইলি আক্তারকে হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করে তার একাধিক ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি আওয়ামী লীগের এক নেতা ও বিএনপির অনেক নেতাকেও একইভাবে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র দাবি করেন, লাইলি দীর্ঘদিন ধরে মাদকসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং দেহব্যবসার আড়ালে গোপন ভিডিও ধারণ করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি মূলত বিত্তশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্তের বক্তব্য ও পুলিশের পদক্ষেপ
অভিযুক্ত লাইলি আক্তার দাবি করেন, মোকবল হোসেন মাস্টারের সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এবং ভুক্তভোগীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও তার মোবাইলে সংরক্ষিত আছে।
দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, "একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া নির্যাতনের ভিডিওর সূত্র ধরে আমরা লাইলি আক্তারকে গ্রেফতার ও জিম্মি মোকবল হোসেন মাস্টারকে উদ্ধার করেছি। এই নারী বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। ভুক্তভোগীর দায়ের করা পর্নোগ্রাফি মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে।"
এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এবং হানি ট্র্যাপের মতো অপরাধমূলক কার্যক্রম রোধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠছে। পুলিশ জানিয়েছে, অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য তদন্ত চলমান রয়েছে।



