শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য না নিয়েই সাক্ষী তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ
বেগম রোকেয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সোহাগ শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মামলায় তার সাক্ষ্য গ্রহণ না করেই তাকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় ‘আবু সাঈদ কর্নার’-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ দেন।
মামলার রায় ও তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন
শাহরিয়ার সোহাগ জানান, আগামী ৯ এপ্রিল বহুল প্রত্যাশিত শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় প্রদানের কথা রয়েছে। তবে, ইতোমধ্যে মামলার তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তিনি বলেন, ‘মামলার সাক্ষী হয়েও আমার সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি। এ মামলায় আমার কোনো প্রকার মৌখিক কিংবা লিখিত সাক্ষ্য নেয়নি। অথচ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীদের তালিকায় আমার একটি বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মামলায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আল ইমরানকে চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া, সকল সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ না করা এবং বিগত চীফ প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকায় এ মামলার কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রিভিউ বোর্ডের মাধ্যমে পুনঃ পর্যালোচনার দাবি
শাহরিয়ার সোহাগ বলেন, ‘বিগত চীফ প্রসিকিউটরের আমলের অভিযোগগুলো রিভিউ বোর্ডের মাধ্যমে পুনঃ পর্যালোচনা করে মামলায় রায় হলে ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতো না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি কখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কোনো সাক্ষ্য দেননি, তবুও সাক্ষ্য রেকর্ড বইয়ে আমার নামে বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, গত ৪ তারিখে শহীদ আবু সাঈদ ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরা ট্রাইব্যুনালে গিয়ে বাদ পড়া সাক্ষীদের সাক্যগ্রহণের কথা বলেছিলেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল থেকে বলা হয়েছে প্যাটার্ন অনুযায়ী সাক্ষীদের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।
মামলার রায় নিয়ে আশঙ্কা
শাহরিয়ার সোহাগ বলেন, ‘আমার সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য রায় পেছানো নয়। শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় বহুল আকাঙ্খিত। তাই এ মামলায় যেসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা দেওয়া দরকার। না হলে ভবিষ্যতে এ মামলার রায় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছি।’
তিনি মামলার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। এই অভিযোগ মামলার রায়ের আগে একটি বড় বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যা আইন বিভাগের কার্যক্রমের উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



