গুম ও হত্যার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিমসহ আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গুম ও হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের এই ট্রাইব্যুনাল আজ মঙ্গলবার এ আদেশ জারি করে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
নতুন মামলায় অভিযোগের বিস্তারিত
প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী এই মামলায় ফজলে করিম ও জিয়াউল আহসানকে হাজির করার আবেদন করেন। তিনি জানান, রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু জাফরকে ২০১০ সালে তুলে নেওয়া হয় এবং তাঁকে গুম করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে ফজলে করিম ও জিয়াউলের বিরুদ্ধে। এটি একটি নতুন মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম শহরে ছয়জনকে হত্যাসহ অনেককে গুরুতর আহত করার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলার আসামি ফজলে করিম। সেই মামলায় ফজলে করিমসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আজ ট্রাইব্যুনাল-২ আমলে নিয়েছেন। জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে গুম ও হত্যার একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
অন্যান্য মামলায় সাবেক আইজিপি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের হাজিরের নির্দেশ
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে পুলিশের অভিযানে মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হককে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকা শহিদুল হককে এ মামলায় ১৯ এপ্রিল হাজির করতে বলেছেন ট্রাইব্যুনাল-২।
গত বছরের ১০ আগস্ট ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে জাহিদুলকে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ দিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী জেবুন্নাহার ইসলাম।
এছাড়াও, ২০১৫ সালে খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান জনিকে ‘ক্রসফায়ার’ দিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলায় সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াকে ১৯ এপ্রিল হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই দুজন আসামিই ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী, সমস্ত আসামিদের ১৯ এপ্রিল তারিখে হাজির হতে বলা হয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



