তাপপ্রবাহের মুখে কালো কোটের বাধ্যবাধকতা শিথিল
দেশে চলমান তাপপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অধস্তন আদালতগুলোতে বিচারক ও আইনজীবীদের জন্য কালো কোট ও গাউন পরা সাময়িকভাবে বাধ্যতামূলক রাখা হচ্ছে না। প্রধান বিচারপতির সরাসরি নির্দেশে এই নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি জারি ও কার্যকর হওয়ার তারিখ
মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এ-সংক্রান্ত একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে এই নির্দেশনা ওই দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই নিয়ম বলবৎ থাকবে।
বিচারকদের জন্য নতুন পোশাক বিধি
নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং বিভিন্ন ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা এখন থেকে কালো কোট এবং গাউন পরিধানের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত। তাদের জন্য বিকল্প হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে:
- সাদা ফুলশার্ট বা সাদা শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ
- সাদা নেক ব্যান্ড বা কালো টাই
এই পরিবর্তনের মাধ্যমে গাউন পরিধান করার কোনো আবশ্যকতা আর থাকবে না বলে সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আইনজীবীদের জন্যও একই নিয়ম
আইনজীবীদের জন্যও পোশাকের নিয়ম সমানভাবে শিথিল করা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রেও কালো কোট ও গাউন পরিধান করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। নির্দেশনা অনুযায়ী, আইনজীবীরা একইভাবে ক্ষেত্রমতে সাদা ফুলশার্ট বা সাদা শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ এবং সাদা নেক ব্যান্ড বা কালো টাই পরিধান করবেন।
তাপপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে মানবিক সিদ্ধান্ত
এই সিদ্ধান্তটি মূলত চলমান তাপপ্রবাহ ও গরম আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে। কালো কোট ও গাউন সাধারণত ভারী ও গরম কাপড়ের তৈরি হয়, যা চরম তাপমাত্রায় অস্বস্তির কারণ হতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে আইন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য একটি মানবিক ও ব্যবহারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পরিবর্তনটি সাময়িক হলেও এটি বাংলাদেশের আইনী ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য অভিযোজন হিসেবে রেকর্ড হবে। আদালত কক্ষে কাজের পরিবেশ আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার পাশাপাশি এই সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



