ধর্ম অবমাননার মামলায় বাউল আবুল সরকারের জামিন ও হাইকোর্টের রুল
হাইকোর্ট ধর্ম অবমাননার মামলায় বাউল আবুল সরকারকে জামিন প্রদান করেছেন। একইসঙ্গে, আদালত আবুল সরকারকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিচারপতি আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
মামলার পটভূমি ও গ্রেফতার
গত ২০ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে আবুল সরকারকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল। পরের দিন, ঘিওর বন্দর মসজিদের ইমাম মুফতি মো. আবদুল্লাহ বাদী হয়ে আবুল সরকারকে আসামি করে ঘিওর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অতিরিক্ত মামলা ও অভিযোগের বিবরণ
এরপর গত ১ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়াসহ ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন ডা. মো. মাহফুজুর রহমান। তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নিউরোট্রমা সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক। মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, আবুল সরকার মানিকগঞ্জের একটি মেলার মঞ্চে পরিবেশিত গানে আল্লাহকে নিয়ে অশ্রদ্ধা ও কটূক্তিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা বাদীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
আইনি ধারা ও হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত
মামলায় দণ্ডবিধির ১৮৬০-এর ২৯৫ এবং ২৯৫ (ক) ধারায় আবুল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। হাইকোর্ট জামিন প্রদানের পাশাপাশি, স্থায়ী জামিন না দেওয়ার কারণ তদন্তের জন্য রুল জারি করেছেন। এই সিদ্ধান্ত আইনি প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ঘটনাটি ধর্মীয় অনুভূতি সংক্রান্ত আইনি বিতর্ক এবং বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় জামিন প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ তৈরি করেছে। হাইকোর্টের আদেশে মামলার বিস্তারিত শুনানি ও তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।



