দিনাজপুর মহিলা চেম্বারের সাবেক সভাপতি সাফা গ্রেফতার: ডুপ্লিকেট এনআইডি জালিয়াতির অভিযোগ
দিনাজপুর মহিলা চেম্বারের সাবেক সভাপতি সাফা গ্রেফতার

দিনাজপুর মহিলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি মোসা. জান্নাতুল সাফা শাহিনুরকে ডুপ্লিকেট জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত তদন্তের ভিত্তিতে দায়ের করা জালিয়াতি ও মানহানির মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার বিকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ভবনের সামনে থেকে গুলশান থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

গ্রেফতারের বিস্তারিত বিবরণ

গুলশান থানার এসআই মাহফুজ গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জান্নাতুল সাফা শাহিনুর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল এবং তাকে সেদিন বিকালে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিকে থানা হাজতে রাখা হয়েছে এবং আগামীকাল সোমবার তাকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

মামলার আইনগত দিক

মামলার নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেনাল কোডের ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৭১ ও ৫০০ ধারার আওতায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে, যার সিআর মামলা নং- ১৫৩/২৬। জান্নাতুল সাফা শাহিনুর বাংলাদেশ আওয়ামী তথ্য-প্রযুক্তি লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাদীর বক্তব্য ও তদন্ত প্রতিবেদন

মামলার বাদী এসেট (ASSET) প্রকল্পের সাবেক উপপকল্প পরিচালক খন্দকার খালেদ রিয়াজ জানান, জান্নাতুল সাফা শাহিনুর ডুপ্লিকেট জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এসেট প্রকল্পের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন এবং একাধিক আর্থিক অনিয়ম করায় তিনি বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করেন। তদন্ত প্রক্রিয়ায় তিনি অভিযুক্তের ডুপ্লিকেট এনআইডি শনাক্ত করেন এবং জান্নাতুল সাফার ডুপ্লিকেট জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রজেক্টের সঙ্গে জালিয়াতি করে চুক্তি করা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালু ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ওমেন চেম্বারের লাইসেন্স গ্রহণ করায় সংশ্লিষ্ট চুক্তি বাতিল ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স বাতিলের জন্য আইনগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা

খন্দকার খালেদ রিয়াজ আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তীতে কারিগরি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এসেট প্রজেক্টের সঙ্গে জান্নাতুল সাফা শাহিনুরের চুক্তি বাতিল ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জালিয়াতি করে লাইসেন্স গ্রহণ করায় আইনগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণসহ তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশসমূহ অনুমোদন করলে প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসান চুক্তিটি বাতিল করেন। এই ঘটনাটি আর্থিক জালিয়াতি ও নথি জালকরণের গুরুতর অভিযোগের দিকে ইঙ্গিত করে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।