স্ত্রীকে 'পাগল' সাজাতে জালিয়াতি: আ.লীগ নেতা হাবিবের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
সন্তানকে কেড়ে নিতে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে স্ত্রীকে 'পাগল' সাজানোর অভিযোগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক ব্যারিস্টার আহসান হাবিব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে হাজির না হওয়ায় এ আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগ
বাদীপক্ষের আইনজীবী রিদওয়ান হোসেন রবিন জানান, সন্তানের কাস্টডি নিতে স্ত্রীকে মানসিক রোগী প্রমাণ করতে জালিয়াতির মামলায় ব্যারিস্টার আহসান হাবিব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে গত বছরের ১৬ অক্টোবর মামলা দায়ের করা হয়। স্ত্রী আয়েশা আতিকের বাবা ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাহ আতিকুর রহমান এ মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি সিআইডি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সিআইডি পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করে।
আইনজীবী রবিন আরও বলেন, "আজ (৫ এপ্রিল) আসামির আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তিনি হাজির হননি। এজন্য তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আবেদন করি। আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।"
মামলার বিস্তারিত বিবরণ
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আয়েশা আতিকের সঙ্গে পরিবারের অগোচরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আহসান হাবিব। আয়েশা ২০২৪ সালের এপ্রিলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন এবং আহসান হাবিবের পরিবারের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। একপর্যায়ে আয়েশা বুঝতে পারেন আহসান হাবিবের অন্যান্য নারীদের সঙ্গে মেলামেশা আছে। সন্তান প্রসবের জন্য আয়েশা ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর আহসান হাবিবের পরিবারের সঙ্গে ব্যাংককে যান। গত বছরের ১ জানুয়ারি তাদের পুত্র সন্তানের জন্ম হয় এবং ১২ জানুয়ারি তারা ঢাকা ফিরে আসেন।
এরপর থেকে আহসান হাবিবের পরিবার আয়েশাকে মানসিক অত্যাচার শুরু করে। আয়েশা তার বাবাকে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। পরে ২৭ জানুয়ারি দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে রেখে আয়েশাকে বাসা থেকে চলে যেতে বলা হয়। দুই দিন পর আয়েশাকে সন্তানসহ বের করে দেওয়া হয়, তবে তার গহনা, ক্যামেরা ও মূল্যবান জিনিসপত্র রেখে দেওয়া হয়।
জালিয়াতির অভিযোগ ও আদালতের কার্যক্রম
গত বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি আয়েশা জানতে পারেন, তাকে পাগল সাজিয়ে সন্তানের কাস্টডি নিতে চান আহসান হাবিব। বিষয়টি জেনে আয়েশা ব্যাংককের সামিটিভেজ হাসপাতালে যোগাযোগ করে আহসান হাবিবকে মেডিকেল তথ্য দিতে বারণ করেন। তবে আহসান হাবিব গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, অথরাইজেশন লেটার ও আয়েশার পাসপোর্টের ফটোকপিতে স্বাক্ষর জালিয়াতি করেন। যা দিয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি আয়েশার মানসিক রোগের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন।
গত বছরের ৬ এপ্রিল আহসান হাবিবকে তালাকের নোটিশ দেন আয়েশা। নোটিশ পেয়ে আহসান হাবিব দাম্পত্য জীবন পুনরুদ্ধারে ৩০ জুলাই পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। এদিকে, গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত আহসান হাবিব ব্যাংককে অবস্থান করে সামিটিভেজ হাসপাতাল থেকে স্ত্রীর একটি মানসিক রোগের সার্টিফিকেট জোগাড় করে আদালতে দাখিল করেন।
এ ঘটনায় আয়েশার বাবা গত বছরের ১৬ অক্টোবর আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আহসান হাবিবের বাড়ির ম্যানেজার রিপন ও সাইফুল ইসলামকেও আসামি করা হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। সিআইডি পুলিশের এসআই আবুল কালাম আজাদ গত ১৩ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন এবং গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আদালত প্রতিবেদন গ্রহণ করে আহসান হাবিবকে ৫ এপ্রিল হাজির হতে সমন জারি করেন। তিনি হাজির না হওয়ায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।



