লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০
লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলের ঘটনা কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী, পুলিশ ও ছাত্রদলের ব্যানারে ‘জুলাই ফাইটার্সের’ নেতাকর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সদর থানার ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম মুরাদসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও উত্তেজনা বৃদ্ধি
রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের চকবাজার জামে মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ রাত ৮টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার জন্য বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের ব্যানারে জুলাই ফাইটার্সের নেতাকর্মীরা একে অপরকে দায়ী করছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পৌর শহরের হাসপাতালে রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান ফাহিম ও জুলাই ফাইটার্স কর্মী, ছাত্রদল নেতা আকবর হোসেন মুন্নার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটে। এতে হাবিবুর রহমান ফাহিম আহত হন।
১৪৪ ধারা জারি ও মিছিলে বাধা
এর প্রতিবাদে রোববার বিকেলে দুপক্ষের নেতাকর্মীরা চকবাজার মসজিদের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয়। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পৌর এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে।
১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা চকবাজার মসজিদের সামনে জড়ো হয়। এক পর্যায়ে মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয় এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু পুলিশের বাধা না মেনে মিছিল করতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে পুলিশের সাথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।
ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও আহতদের অবস্থা
সংঘর্ষ চলাকালে সদর থানার ওসি মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ খবর শুনে জুলাই ফাইটার্সের ব্যানারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল এসে ধাওয়া দেয়। এতে জামায়াত নেতা শহিদ উল্যাহসহ কয়েকজন আহত হন। এনিয়ে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী, পুলিশ ও ছাত্রদলের ব্যানারে জুলাই ফাইটার্সের নেতাকর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়ের অন্তত ২০ জন আহত হন।
পরে আহত অবস্থায় সদর থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজসহ আহত অন্যদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উত্তর তেমুহনী গিয়ে শেষ হয়। এনিয়ে শহরের উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশের বক্তব্য ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন-অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেছে। পুলিশ বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে সদর থানার ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
এই ঘটনায় শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত রাখতে নজরদারি জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।



