কেরানীগঞ্জ গ্যাসলাইটার কারখানা অগ্নিকাণ্ড: আসামি ইমান উল্লাহ কারাগারে প্রেরণ
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকায় সংঘটিত গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মামলায় আসামি মো. ইমান উল্লাহকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে, তাঁর রিমান্ড শুনানির জন্য আগামীকাল সোমবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালতে হাজির ও রিমান্ড আবেদন
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম আজ রোববার আসামি ইমান উল্লাহকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না এ আদেশ প্রদান করেন।
আজ দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকা থেকে ৫০ বছর বয়সী আসামি মো. ইমান উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা ও মৃতদেহ উদ্ধার
গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জের কদমতলী আমবাগিচা ডিবজলের গলিতে অবস্থিত মেসার্স এসার গ্যাস প্রো ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে ছয়জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, যার মধ্যে একজন শিশু ও দুজন নারী রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদন
অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. জুয়েল রানা কারখানাটির মালিক মো. আকরাম উল্লাহ আকরাম, তাঁর ছেলে আহনাফ আকিফ আকরাম, ইমান উল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামি মো. ইমান উল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ–সাতজনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আকরাম উল্লাহ আকরাম ও তাঁর ছেলে আহনাফ আকিফ আকরাম জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে ৮–১০ বছর ধরে ৫০–৬০ জন শিশু, নারী ও পুরুষ শ্রমিক নিয়ে ফ্যাক্টরিটি চালিয়ে আসছিলেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একাধিকবার বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ফ্যাক্টরিটি বন্ধ ও সিলগালা করলেও মো. ইমান উল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ–সাতজনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কারখানার মালিক ও তাঁর ছেলে পেশিশক্তি ব্যবহার করে আবার ফ্যাক্টরিটির সামনের গেটে তালা দিয়ে ভেতরে লুকিয়ে বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষার অভিযোগ
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ওই কারখানায় যেকোনো সময় অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে এবং এতে বহু লোক হতাহত হতে পারে জানার পরও আসামিরা ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কোনো অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা রাখেননি।
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আদালতের এ সিদ্ধান্ত অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।



