এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলে সামির ও শাকিরসহ তিনজন জামিন পেলেন
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরদিনই আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলে সামির কাদের চৌধুরী ও শাকির কাদের চৌধুরীসহ তিনজন। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশানে এক শিল্পপতির ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে তারা আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শুনানি পরিচালনা করেন।
আদালতের সিদ্ধান্ত ও জামিন প্রক্রিয়া
শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন বলে প্রসিকিউশনের এসআই মোক্তার হোসেন নিশ্চিত করেছেন। জামিন পাওয়া অপর আসামি হলেন মেরিনা ইরশাদ। এর আগে আদালতে হাজির না হওয়ায় এ তিনজনসহ আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীও এ মামলার আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ
মামলার বাদী প্রয়াত শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৬ সালে গুলশান মডেল টাউন এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণে সামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের প্রোপ্রাইটার আরেফিন সামসুল আলমের সঙ্গে চুক্তি করেন মাইনুল ইসলাম ও তার স্ত্রী। ২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারা ভবনটি বুঝে পান।
পরের বছর ২০০৮ সালের ২৪ মার্চ মারা যান মাইনুল ইসলাম। তার মৃত্যুর পর আসামিরা ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। জাল দলিল তৈরি করে ভবনের দ্বিতীয় তলার পুরো ফ্লোর দখলের চেষ্টা করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। গত বছরের ১৪ জুলাই তারা বাসায় ঢুকে তালা ভেঙে ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করেন এবং ৫ কোটি টাকা চাঁদা চান। বাদীকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
হামলা ও লুটপাটের ঘটনা
এছাড়া গত ২৮ আগস্ট আবারও হামলা চালিয়ে বাসার লোকজনকে আহত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ১০ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় এবং নিচতলার গ্যারেজ ভাঙচুর করে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি করে। আহতরা পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এই ঘটনাগুলো মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে আইনজীবীরা মন্তব্য করেছেন।



