হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের চিঠি আদালত অবমাননাকর: চিফ প্রসিকিউটর
হাসিনার মৃত্যুদণ্ড চিঠি আদালত অবমাননাকর: চিফ প্রসিকিউটর

হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের চিঠি আদালত অবমাননাকর: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে পাঠানো চিঠিকে আদালত অবমাননাকর বলে উল্লেখ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন এবং আইনি দিকগুলো স্পষ্ট করেন।

চিঠি পাঠানোর আইনি সুযোগ নেই

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, 'মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পক্ষে লন্ডন থেকে কোনো ল ফার্মের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠানোর আইনে কোনো সুযোগ নেই।' তিনি আরও দাবি করেন যে, এই চিঠি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রমকে বিতর্কিত করার জন্য পাঠানো হয়েছে।

আপিলের সঠিক পদ্ধতি

চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেন যে, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে আসামিকে সশরীরে হাজির হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করতে হবে। আসামি অনুপস্থিত থেকে কোনো আইন সংস্থার মাধ্যমে চিঠি পাঠানোর কোনো বৈধতা নেই। তিনি জানান, শেখ হাসিনার মামলার ক্ষেত্রে লন্ডনভিত্তিক আইন সংস্থা কিংসলি ন্যাপলির চিঠি ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বা চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে জমা পড়েনি, তবে গণমাধ্যমের মাধ্যমে তারা এই সংবাদ পেয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিঠির বিষয়বস্তু ও পটভূমি

জানা গেছে, ৩০ মার্চ ই-মেইলের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের আইনজীবী কিংসলি ন্যাপলি শেখ হাসিনার পক্ষে এই চিঠি পাঠান। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে যে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক মানদণ্ড লঙ্ঘন হয়েছে। এতে তার বিচারপ্রক্রিয়াকে অন্যায্য ও অবৈধ বলা হয়েছে। চিঠিতে ১৪ দিনের মধ্যে জবাব দেয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। বিচার চলাকালে তিনি অনুপস্থিত থাকায় ট্রাইব্যুনাল তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিযুক্ত করেন। আইন অনুযায়ী, এই রায় পরিবর্তন বা বহাল রাখার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রয়েছে। বর্তমানে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনাটি বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেছে। চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য আদালতের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলাগুলোর জন্য একটি প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্ত হতে পারে।