হাসানুল হক ইনুর মামলার পুনঃতদন্ত আবেদন খারিজ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়
জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর মামলার পুনঃতদন্ত চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইনুর বিরুদ্ধে চলমান মামলার প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
আবেদন খারিজের পটভূমি
এর আগে, ১০ মার্চ সাফাই সাক্ষ্য হিসেবে প্রায় ৬৪ পৃষ্ঠার একটি লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেন হাসানুল হক ইনু। নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে এ বক্তব্য দাখিল করেন তিনি। তবে মৌখিক সাক্ষ্যের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছিলেন তার আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুনঃতদন্তের আবেদন করা হয়েছিল, যা এখন খারিজ হয়েছে।
অভিযোগের বিবরণ
প্রসিকিউশনের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে নামেন ছাত্র-জনতা। হাসানুল হকের নির্দেশে তাদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী। তাদের গুলিতে শহিদ হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এ ছাড়া উসকানি-প্ররোচনাসহ ইনুর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ আনা হয়।
আদালতের সিদ্ধান্তের তাৎপর্য
এই সিদ্ধান্তে আদালত উল্লেখ করেছে যে, পুনঃতদন্তের আবেদনে যথেষ্ট আইনি ভিত্তি নেই এবং মামলার প্রমাণাদি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন নেই। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোতে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায়ের ফলে ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম আরও গতি পেতে পারে।
হাসানুল হক ইনু বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কারাগারে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। এই খারিজ সিদ্ধান্তের পর তার আইনজীবীরা উচ্চতর আদালতে আপিল করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।



