কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধের ঘুষ কেলেঙ্কারিতে আমির হামজাকে আইনি চ্যালেঞ্জ
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাবদাতাদের নাম প্রকাশ করতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই নোটিশটি বুধবার (১ এপ্রিল) মো. হৃদয় হাসান নামের এক ব্যক্তি কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মজিদের মাধ্যমে প্রেরণ করেন।
নোটিশের মূল দাবি ও সময়সীমা
আইনি নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুফতি আমির হামজাকে নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে এর জবাব দিতে হবে। প্রধান দাবি হিসেবে তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম বন্ধের জন্য ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাবদাতাদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে অথবা তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।
এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে, যা গত ২৭ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় আসার পর ত্বরান্বিত হয়েছে।
ঘুষের প্রস্তাব ও আমির হামজার বক্তব্য
নোটিশে উল্লেখ করা হয় যে, সম্প্রতি বিভিন্ন জনসভায় মুফতি আমির হামজা দাবি করেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য তাকে তিনদিনের মধ্যে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি এই প্রস্তাব স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, "তাকে পুরো কুষ্টিয়া লিখে দিলেও তিনি তার অবস্থান থেকে সরে আসবেন না।"
তার এই বক্তব্য গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়, যা জনমনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে।
আমির হামজার প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান অবস্থা
এই বিষয়ে মুফতি আমির হামজার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনি নোটিশ প্রাপ্তির পর তিনি কী পদক্ষেপ নেন, তা এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
এই ঘটনাটি কুষ্টিয়া অঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে, যেখানে মেডিকেল কলেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীরা এই বিষয়ে স্বচ্ছতা ও দ্রুত সমাধান কামনা করছেন।



