বিচারকের সিল-স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু তদন্তে কমিটি গঠন
ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তদন্তে কমিটি গঠন

আদালতে অনিয়ম তদন্তে কমিটি গঠন: বিচারকের সিল-স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু

বিচারকের সিল-স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যুসহ আদালতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জরুরি নির্দেশ প্রদান করেন।

আবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন

আইনজীবী আনোয়ারুল ইসলামের একটি আবেদনের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে আদালতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন। সেই আবেদন আমলে নিয়ে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীরকে প্রধান করে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন এবং ডিএমপির একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার। কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এসব গুরুতর অভিযোগ তদন্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত কমিটির ক্ষমতা ও দায়িত্ব

তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কমিটিকে ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। কমিটি যে কোনো নথি তলব করতে পারবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যে কোনো কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার অধিকার পাবে।

আদালতের আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের প্রভাব, বাধা বা হস্তক্ষেপের চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদেশে আরো বলা হয়েছে, এ ধরনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা বিচার প্রশাসনের ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে আঘাত করবে এবং বিচারব্যবস্থার ওপর জনসাধারণের আস্থা গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন করবে।

তদন্তের মূল বিষয়বস্তু

কমিটিকে যেসব বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে প্রধানগুলো হলো:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • জাল পরোয়ানা ও বিচারিক নথি প্রস্তুত ও ব্যবহারের সত্যতা যাচাই করা
  • সংশ্লিষ্ট আদালত কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অন্যদের সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা
  • হেফাজত থেকে আসামি হাজিরের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম খতিয়ে দেখা
  • অবৈধ উপঢৌকন বা প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে বেআইনি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা

পাশাপাশি কমিটিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক সুপারিশগুলো উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। আদালত কমিটিকে আদেশের তারিখ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ, যুক্তিযুক্ত ও প্রমাণভিত্তিক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জোরালো নির্দেশ দিয়েছে।

বিচারব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ

আদালতের পবিত্রতা, মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা কোনো অবস্থাতেই ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া যাবে না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত মনে করে, সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।

এই তদন্ত কমিটি গঠন বিচারিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।