আদালতে ভুয়া ওয়ারেন্ট চক্রের অভিযোগে জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠন
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজের আদেশে বিচারিক সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি, ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে আসামিদের অবৈধ সুবিধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) আদালত এই কমিটি গঠনের পাশাপাশি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দেন।
অভিযোগের উৎস ও আদালতের প্রতিক্রিয়া
গত ৩০ মার্চ দৈনিক যুগান্তরে 'আদালতে ভুয়া ওয়ারেন্ট চক্রের ভয়ংকর দৌরাত্ম্য' শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঢাকা কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম এই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে একটি আবেদন দাখিল করলে আদালত নথিভুক্ত তথ্যাদি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে। আদালত প্রাথমিকভাবে দেখতে পান যে, বিচারিক সিলমোহর ও স্বাক্ষর জালিয়াতি, জাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি, আদালতে আসামি হাজিরে অনিয়ম এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নির্দিষ্ট আসামিদের বেআইনি সুবিধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা বিচার প্রশাসনের ভিত্তিকে আঘাত করবে এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর জনসাধারণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে। আদালতের পবিত্রতা, মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা কোনো অবস্থাতেই ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেন।
তদন্ত কমিটির গঠন ও দায়িত্ব
অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন মনে করেন। সেই প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন:
- ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীর (চেয়ারম্যান)
- ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন
- ডিএমপির একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদস্য)
কমিটিকে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- জাল পরোয়ানা ও বিচারিক নথি প্রস্তুত এবং ব্যবহারের সত্যতা যাচাই
- সংশ্লিষ্ট আদালত কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অন্যদের সম্পৃক্ততা শনাক্ত
- হেফাজত থেকে আসামি হাজিরের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম খতিয়ে দেখা
- অবৈধ উপঢৌকন বা প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত
পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক সুপারিশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে আদেশে। আদালত কমিটিকে আদেশের তারিখ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ, যুক্তিযুক্ত ও প্রমাণভিত্তিক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
তদন্তের ক্ষমতা ও সতর্কতা
তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে কমিটিকে যেকোনো নথি তলব, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যেকোনো কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের প্রভাব, বাধা বা হস্তক্ষেপের চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এই পদক্ষেপ বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



