তিনটি মামলায় দীপু মনিকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হলো চাঁদপুর আদালতে
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলায় চাঁদপুর আদালতে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মান্নানের আদালতে ভার্চুয়ালি হাজির দেখানো হয় তিন মামলার আসামি সাবেক এই মন্ত্রীকে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের স্বার্থে বিচারক তিনটি মামলায় আসামির শোন অ্যারেস্ট মঞ্জুর করেছেন।
মামলার বিস্তারিত বিবরণ
আদালত থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জিআর ৫৭৯, জিআর ৫৭১ এবং জিআর ৫৮৫ নম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা আসামিকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নাদির শাহ বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি (বর্তমান এমপি) শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাসায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ও ৪ আগস্ট দুইবার ভাঙচুর, আগুন ও লুটপাট করা হয়। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১নং আসামি দীপু মনি। তার নির্দেশে অন্যান্য আসামিরা এ ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিন্টু দত্ত উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ১ নম্বর আসামি দীপু মনির ইন্ধনে অন্য আসামিরা ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়। তৃতীয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নুরে আলম বলেন, একই দিনে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সড়ক ভবনের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় দীপু মনির নির্দেশে।
আদালতের কার্যক্রম ও আসামির অবস্থান
তিনটি মামলায় আসামি দীপু মনির পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। দীপু মনি নিজেই তার মামলার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেন। আদালত থেকে জানানো হয়, তিনটি ঘটনাই চাঁদপুরে সংঘটিত হয়। দীপু মনিকে এজাহারে নির্দেশ ও ইন্ধনদাতা হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে আসামি দাবি করেছেন যে তিনি এই ঘটনাগুলোর সাথে জড়িত ছিলেন না।
বিচারক তদন্তের স্বার্থে তিনটি মামলায় আসামির শোন অ্যারেস্ট মঞ্জুর করেন। বর্তমানে দীপু মনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে আছেন। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন জিপি এজেডএম রফিকুল হাসান রিপন, স্পেশাল পিপি শিরিন সুলতানা মুক্তা, সিনিয়র আইনজীবী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হারুনুর রশিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শামসুল ইসলাম, সম্পাদক জাকির হোসেন ফয়সালসহ বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।
এই ঘটনাগুলো ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো নিয়ে বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।



