বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণা ও নৈতিক স্খলন: সহকারী প্রোগ্রামার শরিফুল ইসলাম চাকরিচ্যুত
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মো. শরিফুল ইসলামকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন, প্রতারণা ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা নীতির কঠোরতা তুলে ধরে।
তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগের বিবরণ
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, শরিফুল ইসলাম বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিবাহের আগে ও পরেও তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িত ছিলেন—যা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। তদন্তে পাওয়া হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন থেকে জানা যায়, ওই নারীর গর্ভধারণের বিষয়টি তিনি জানতেন এবং তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপও দিয়েছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদনে এসব কর্মকাণ্ডকে ‘নৈতিক স্খলন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এতে আরও উঠে আসে, তারা একটি রিসোর্টে গোপনে সময় কাটিয়েছেন, যার সিসিটিভি ফুটেজও প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতির আড়ালে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি বিবাহিত থাকা সত্ত্বেও তিনি আগের সম্পর্ক বজায় রাখেন এবং অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ দেন বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিভাগীয় মামলা ও শাস্তির প্রক্রিয়া
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তিনি লিখিত জবাব ও ব্যক্তিগত শুনানির সুযোগ পেলেও তদন্তে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়। পরে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে নির্ধারিত সময়ে জবাব না দিয়ে সময় বাড়ানোর আবেদন করেন, যা গ্রহণ করা হয়নি।
বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে পাঠানো হলে তারাও বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়। এর পরই বিধিমালা অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়, যা সরকারি চাকরিতে নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্বকে আরও জোরালো করে।
এই ঘটনা সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যেখানে ব্যক্তিগত আচরণ ও পেশাদারিত্বের ভারসাম্য রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



