নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় রিপনের মৃত্যুদণ্ড ও রাব্বীর খালাস
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে স্কুলছাত্র আরাফাত রহমান হত্যা মামলায় আসামী রিপন মিয়ার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপর আসামী রাব্বীকে এই মামলায় খালাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীমের আদালতে এই রায় ঘোষণা করা হয়। রায় শোনানোর সময় উভয় আসামী আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত ঘটনা
নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকিরের বর্ণনা অনুযায়ী, বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের লাউসার গ্রামের রফিকুল ইসলাম মনার ছেলে স্কুলছাত্র আরাফাত রহমানকে ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে বিজয় দিবসের একটি কনসার্টে নিয়ে যায় একই গ্রামের ইসলাম মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া। বড় ভাইয়ের সাথে দ্বন্দ্বের জের ধরে ওই রাতেই বাড়ির পাশের পুরাতন স্কুল ভবনে নিয়ে আরাফাতকে প্রথমে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে থেঁতলে দেওয়া হয়। পরে গলাটিপে হত্যা করে মসজিদের পুকুরে লাশ ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পর রিপন নিজেই পরিবারের সাথে আরাফাতকে খোঁজাখুঁজি করতে শুরু করে। তিন দিন পর ১৮ ডিসেম্বর আরাফাতের লাশ পুকুরে ভেসে ওঠে। ১৯ ডিসেম্বর এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
আদালতের কার্যক্রম ও রায়
এই ঘটনায় রিপনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হলে সে একাই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে বলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়। পরে আদালত থেকে জামিন পেয়ে সে পলাতক রয়েছে। আদালত স্বাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রিপনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। অপর আসামী রাব্বী দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় শোনানোর সময় উভয় আসামী পলাতক ছিলেন বলে আদালত সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই মামলাটি নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।



